ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ মে ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

পোশাক শিল্প কারখানার অনিয়ম ও জুলুমের অবসান হবে কবে?

রিপোর্টার মেহেদুল ইসলাম
মে ২, ২০২৪ ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ । ১৬ জন
Link Copied!

print news

আবহমান কাল থেকে পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে দুটি শ্রেণি। যথাঃ ক. প্রতিষ্ঠান মালিক খ. শ্রমিক। মালিকদের দিবস বলা যায় ৩৬৪ দিন। আর বছরের অবশিষ্ট মাত্র একদিন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ১লা মে শ্রমিক দিবস। প্রায় ৮০টি দেশে জাতীয় ভাবে এটি পালন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর এদিন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর এর হে মার্কেটের সামনে শ্রমিকরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে একত্রিত হয়েছিল। সেই জের ধরে প্রতিষ্ঠান মদদপুষ্ট পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। তাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়। পরবর্তীতে রেমন্ড লাভিনে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীর সময় আন্তর্জাতিক ভাবে পালনের প্রস্তাব দেন। শুধুমাত্র আমেরিকা ও কানাডা শ্রমিক দিবস পালন করলেও ১লা মে তারিখটিকে কৌশলগত কারণে গ্রহণ করেনি।অন্যান্য দেশের মতো মে দিবস বাংলাদেশেও পালিত হয়। এ দিনে শ্রমিকদের ছুটি থাকে। শিল্প কারখানা বন্ধ থাকে। কিন্তু শ্রমিক দিবস এর চেতনা বাস্তবায়ন হয়না। শ্রমিক আন্দোলন হলে এদেশে শিকাগো শহরের মতো শ্রমিকদের গুলিবর্ষণ করে হত্যা করা হয়, যার বিচার হয়না।বর্তমান যুগে সারাবিশ্বে শ্রমিকদের মর্যাদা সমুন্নত। তবে এদেশে শ্রমিকদের ওপর বৈষম্য, কৌশলগত জুলুম বিদ্যমান। দেশের মোট আয়ের সিংহভাগ রেমিটেন্স পোশাক শ্রমিকদের ত্যাগের বিনিময়ে আসে। অথচ অত্যন্ত স্বল্প মজুরিতে তাদের শ্রম কিনে নেওয়া হয়। শ্রমিকদের শ্রমের যথাযথ মূল্য নেই। এদেশে পোশাক শিল্পের বিকল্প শিল্প পর্যাপ্ত ও সমৃদ্ধ না থাকায় শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে ন্যুনতম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। মজুরি বোর্ড ন্যায্য ভাবে শ্রমিকদের দিকে দৃষ্টিপাত করেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। পাঁচ বছর পরপর আন্দোলনের মাধ্যমে সামান্য মজুরি বাড়লেও লাগামহীন জিনিস পত্রের দাম, বাসা ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট বিল সহ যাবতীয় ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামান্য বেতন বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়না।বর্তমান সময়ে শিল্প কারখানা কর্তৃক শ্রমিকদের ওপর কিছু অনিয়ম ও অবিচার তুলে ধরা হলো- ১। দৈনিক ৮ ঘন্টার পরও জোড়পূর্বক মাত্রাতিরিক্ত কর্মঘণ্টা করানো।২। কারখানায় প্রয়োজনীয় শ্রমিক কমিয়ে কাজের চাপ বৃদ্ধি। ৩। শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। ৪। চাকুরীচ্যুত করার ভয় দেখানো। ৫। চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিলে সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাদি দিতে টালবাহানা। ৬। কোম্পানি কর্তৃক শ্রমিককে হয়রানি ও মামলার হুমকি। ৭। শ্রমিককে জীবন নাশের হুমকি। ৮। ছোটখাটো ভুলেই বেতন কর্তন। ৯। শ্রমিকদের ওপর অযথা মানসিক চাপ বৃদ্ধি। ১০। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও নানা বাহানায় কারখানা খোলা রাখা।১১। নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানি। ১২। সুন্দরী নারী শ্রমিক উদ্বর্তন কর্মকর্তা কর্তৃক কু-প্রস্তাবে রাজি নাহলে নানামুখী চাপ সহ কাজের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। ১৩। প্রয়োজনীয় ছুটি না দেওয়া এবং পাওনা ছুটি না দেওয়া। ১৪। কারখানার কর্মপরিবেশ ও সেফটি ঠিক না রেখে শ্রমিকদের কাজ করানো। ১৫। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এর নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন না করা।১৬। শ্রম আইন মেনে না চলা। ১৭। কমপ্লায়েন্স বহির্ভূত কারখানা পরিচালনা।পোশাক শিল্প এদেশের ব্যবসায়ীদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে পারছে না। যার মূল কারণ, শ্রমিকদের স্বল্প মজুরি ও শ্রমিকদের প্রতি নানা অনিয়ম-অবিচার। শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য চায়। কিন্তু সেটা কোন ভাবে পাচ্ছে না। তাই তারা পোশাক শিল্প কারখানা থেকে অনিয়ম ও জুলুমের অবসান চায়। এ পরিস্থিতিতে, শ্রমিকদের ওপর এহেন বৈষম্য থাকার পরও কী মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে মে দিবস এর চেতনা; দেশ গড়ার মনোভাবে সেতুবন্ধন গড়ে ওঠবে? সন্দিহান !