ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মার্চ ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব মাংসের দোকান বন্ধ, দাম পুনঃবিবেচনা দাবী।

এম কে খোকন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো চীফ
মার্চ ১৯, ২০২৪ ৫:১৩ অপরাহ্ণ । ৪৫ জন
Link Copied!

print news

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করে মূল্য পুনঃনির্ধারন করার দাবি জানিয়েছেন মাংস বিক্রেতারা। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ)  জেলার বিভিন্ন শহরের দ্বিতীয় দিনের মত সকল মাংসের দোকান বন্ধ  রখেছে। এ অবস্থায় বাজারে এসে ক্রেতারা মাংস না পেয়ে বিপাকে পরেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় ফারুকী বাজার, আনন্দবাজার (বড় বাজার), মেড্ডা বাজার, কাউতলী বাজার, দক্ষিণ মৌড়াইল বউ বাজার, বর্ডার বাজার, ভাদুঘর বাজারে গরু, খাসির মাংসের পাশাপাশি মোরগ-মুরগি বিক্রি হয়। গত রবিবার রাতে বিপণন কার্যালয় থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের একটি তালিকা গরুর মাংস ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা হয়। সেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি দরে উৎপাদন খরচ ৫৮৭ দশমিক ৫০ টাকা, উৎপাদক পর্যায় খরচ ৬০৫ দশমিক ১৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৬৩১ দশমিক ৬৯ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজির দর ৬৬৪ দশমিক ৩৯ টাকা উল্লেখ করা হয়‌। এর জেরে জেলা মাংস ব্যবসায়ী মালিক সমিতি গরুর মাংস বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। এতে সম্মতি দিয়ে জেলা শহরের সকল গরুর মাংস ব্যবসায়ীরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে জেলা শহরের বাজারগুলোতে কোনো গরু জবাই করেনি। মাংস ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন ও শামীম জানান, আমরা জনগনের চাহিদা ও ক্রয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করেই মাংস বিক্রি করে থাকি। সরকার আমাদের যে বাজার দর দিয়েছে ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা দর। এই দরে মাংস বিক্রি করে আমাদের ব্যবসার লোকশান হবে। তাই আমরা গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আমাদের মাংস বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।ব্যবসায়ী সেন্টু মিয়া বলেন, আমরা লোকসানে ব্যবসা করতে পারব না। সরকার গরুর মাংসের যে দাম নির্ধারন করে দিয়েছেন, সে দামে মাংস বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবে। লোকসান দিয়েতো আর ব্যবসা সম্ভব না। তাই সকাল থেকে আমরা মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছি।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ীরা খামারী এবং ব্যাপারি থেকে গরু কিনে থাকে, তারা চামড়া সহ গরু কিনে বাজারে জবাই করে থাকেন। এতে ৭২০ টাকার মতো  প্রতি কেজিতে দাম  পড়ে। এ অবস্থায় সরকার ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে। তা আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাজারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অবশ্যই দাম সমন্বয় করতে হবে। কারণ খামারে গরুর দাম কমাতে হবে। দাম পুনরায় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় এই মাংসের বাজার বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। শহরে ফারুকী বাজার আসা ক্রেতা মো.শামসুল ইসলাম জানান, বাড়ি থেকে গরুর মাংস কিনার জন্য বাজারে এসে দেখি সকল মাংসের দোকান বন্ধ। গরুর মাংস কিনতে না পেরে ফার্মের মুরগি নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। রোজা- রমজান মাসে এমনটা আমরা প্রত্যাশা করিনি। আশা করি ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের সমস্যার সমাধান করে দোকান গুলো আবারো চালু করবেন।  এদিকে মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে মাংস ব্যবসায়ী নেতারা ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, রমজানের আগেও গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ছিল। সরকার এবার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলব।