ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ দিন ধরে মাংস বিক্রি বন্ধ

এম কে খোকন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো চীফ
মার্চ ২১, ২০২৪ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ । ৪২ জন
Link Copied!

print news

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে এ অজুহাত দেখিয়ে গত ৪ দিন যাবত গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। কাজে আসেনি প্রশাসনের হুশিয়ারী। ফলে জেলা শহরের প্রধান বাজার আনন্দ বাজার, ফারুকী বাজার, মেড্ডা বাজার, মৌড়াইলের বৌ বাজার, কাউতলী বাজার, ভাদুঘর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে।তবে চলমান সংকট নিরসন ও মাংসের মূল্যের বিষয়টি পুনঃ বিবেচনা করার জন্য মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিকেলে মাংস ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি আজিজুল হকের নেতৃত্বে মাংস ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান দেশব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রির যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করার জন্য তাগিদ দেন, নাহলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। কিন্তু মাংস ব্যবসায়ীরা তাদের দাবিতে অনঢ় থেকে এখনও শহরের বাজারগুলোতে মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাংসের দোকানে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে মধ্যে গরুর মাংস ব্যবসায়ীদের ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করার জন্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার সরকার নির্ধারিত দামে গরুর মাংস বিক্রিতে লোকসানের কথা জানিয়ে ওইদিন থেকে শহরের মাংস বিক্রেতারা মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ব্যবসায়ীদের দাবি খামার বা ব্যাপারীদের কাছ থেকে প্রতি কেজি গরুর মাংস চামড়াসহ তাদের কেনা পড়ে ৭২০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি বিক্রয় করতে হয় ৭৫০ টাকা দরে। এ জন্য সরকার থেকে যে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সে দরে বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে মাংস বিক্রির সুযোগ নেই। সারাদেশে সরকারি নির্দেশনা মত মাংস বিক্রয় করছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের সাথে মাংস ব্যবসায়ীদের আলোচনা হয়েছে। সেখানেও জেলা প্রশাসক সরকার নির্ধারিত দামেই ব্যবসায়ীদের মাংস বিক্রীর নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে সাধারন ক্রেতারাও মাংস ব্যবসায়ীদের অপরাগতাকে পাত্তা দিচ্ছে না। তারা মনে করছে একটি অসাধু চক্র দাম বৃদ্ধি করে বেশি মুনাফা হাতিয়ে নিতে চায়। সরকার সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের কঠোর হওয়া দরকার। এছাড়াও জনসাধারণ যদি দাম বৃদ্ধি করা পণ্য ক্রয় না করে এড়িয়ে যায় তাহলে অতি মুনাফা লাভকারীরা দাম কমাতে বাধ্য হবে।