ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দুইগ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০ ও আটক ১।

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দুইগ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০ ও আটক ১। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহবায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিল বের করলে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে ১ জনকে আটক করে।
শনিবার (১২ আগস্ট) বিকালে ৫ টার দিকে জেলার পৌরশহরের পাওয়ার হাউজ রোডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০ আগস্ট বিএনপির জেলার ৫ সদস্যের আংশিক আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপর থেকেই জেলা বিএনপির একটি অংশের নেতা-কর্মীরা ঘোষিত কমিটিকে ফরমায়েশী কমিটি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকালে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এরই জেরে দরে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার বিকালে ৩ টাই নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম পৌর এলাকার শেখ হাসিনা সড়ক সেতু এলাকায় একটি আনন্দ র্যালি বের করেন। অপরদিকে একই সময়ে জেলা বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকনের নেতৃত্বে পাওয়ার হাউজ রোডে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করে।
আনন্দ র্যালি কিছু দূর যাওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আনন্দ র্যালি শেষ করে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। পরে সংঘর্ষ হয়েছে তা শুনেছি।
জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, এমন ব্যক্তিকে আহবায়ক করায় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিব্রতকর। এই কমিটি বাতিল করে নতুন করে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নেতা-কর্মী সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসাইন বলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, জেলা বিএনপি’র অধিকাংশ সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের আবদুর রহমান সানী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী। আবদুর রহমানের বড় ভাই কবির আহমেদ ভূইয়া তার ছোট ভাইয়ের প্রভাবকে ব্যবহার করে এই কমিটি দিয়েছেন। কবির আহমেদ ভূইয়া আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। জেলা ও উপজেলাসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল কমিটিতে কবিরের পছন্দের অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন। এনিয়ে বিভিন্ন সময় ত্যাগী পদবঞ্চিতদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কবিরের অনুসারীরা পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পুরো জেলা বিএনপি’র মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


















