ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোন ছিটেফোঁটাও নেই: রিজভী

রিপোর্টর সৈয়দ রাসেল 
ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪ ৩:০৬ অপরাহ্ণ । ৩৯ জন
Link Copied!

print news

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গত ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার দুঃশাসনের প্রকোপ বৃদ্ধির জন্য আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ছিটেফোঁটাও নেই। ভোটারবিহীন অবৈধ ক্ষমতার গরিমায় মন্ত্রীরা জুলুমের তীব্রতা বৃদ্ধির হুমকি দিয়ে জনসমাজে ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ডামি সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেছেন—‘মিথ্যা তথ্য ও মিথ্যা খবর দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বন্ধে সংসদে আইন আনা হবে’। তিনি আরও বলেছেন, ‘অলরেডি একটি আইন আছে যেটা হচ্ছে সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট, আরও কিছু আইন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংসদে আসবে’। অর্থাৎ নাগরিকদের ওপর নজরদারী আরও তীব্র হবে, এটি সমগ্র জাতিকে পর্যবেক্ষণে রাখার এক নতুন কালো আইন প্রনয়ণের আলামত। মূলত: সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ যাতে কোনো কথা বলতে না পারে সেজন্যই একের পর এক ‘ড্রাকোনিয়ান আইন’ তৈরী করছে সরকার।
তিনি বলেন, বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ছিটেফোঁটাও নেই। সরকারী সংস্থাগুলোকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নানাভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের মিথ্যা জয়গান প্রচার করেও শান্তি পাচ্ছে না তারা। তারপরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশী ও বিদেশী কিছু মিডিয়ায় তাদের অনেক অপকর্ম প্রকাশিত হয়। সেটিও যাতে প্রকাশ হতে না পারে সেজন্য কিছুদিন আগে সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এবার ডামি নির্বাচনে জনগণ কতৃর্ক প্রত্যাখাত হয়ে মানুষের কন্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে হুমকি দিচ্ছেন।
রিজভী বলেন, দেশে মতপ্রকাশ বা বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য অনেক মানুষকে যেভাবে মামলা ও জেল—জুলুম ভোগ করতে হয়েছে, এবার জুলুম—নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিবে। ডামি সরকারের বিরুদ্ধে কেউ সমালোচনা করতে পারবে না।
নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কলুষিত করে জবাবদিহিহীন অসীম ক্ষমতাশালী ডামি সরকার মানুষের ন্যুনতম অধিকার দিতে রাজী নয়। এদের কাছে জনগণ নিতান্তই গৌণ, উপেক্ষিত তাচ্ছিল্যের একটি বিষয়। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে সরকার নিয়ন্ত্রিত ৪টি পত্রিকা ছাড়া সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতা দখল করে প্রতিনিয়ত গণবিরোধী কালা—কানুন করছে। আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে গ্রেফতার, সভা—সমাবেশে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলা, আক্রমণ চালিয়ে গণতন্ত্রমণা নেতাকর্মীদের রাস্তার ওপর ফেলে শারীরিক অত্যাচার করা। গতকাল গণতন্ত্র মঞ্চের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে জোনায়েদ সাকিসহ ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এই সরকারী নিষ্ঠুর যাঁতাকলে এ দেশে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আশা—আকাঙ্খাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।