যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন
ঢাকা, ১৫ জুন: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও বিরোধের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সবসময়ই আন্তর্জাতিক বিরোধ ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতাকে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেসব পক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীরা এই চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছে, বাংলাদেশ তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সদিচ্ছার ভিত্তিতে চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়ন করবে এবং এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা সরাসরি সম্পর্কিত।
বাংলাদেশ সরকার সকল পক্ষকে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই শান্তিচুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশও এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশ সরকার পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুদ্ধ বা সংঘাত নয়, বরং সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনীতিই হতে পারে টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ।
























