ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন শুরু, ফরম নিলেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন মুন্সিগঞ্জের মোল্লা কান্দি ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর সহ অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।  জাতীয় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী উদ্যোগ সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা বাংলাদেশ নারকোটিকস কন্ট্রোল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন রাজিউর রহমান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: শোকের ছায়া গোটা দেশে সিলেটে মহান স্বাধীনতা দিবসে জেলা ও মহানগর যুবদলের শ্রদ্ধা নিবেদন তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নুরুল হক নুর।  জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন

সুগন্ধা নদীর ভয়াল থাবায় ভিলিনের পথে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার বিভিন্ন গ্রাম

রিপোর্টারঃ-সৈয়দ আল ইমরান
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

সুগন্ধা নদীর ভয়াল থাবায় ভিলিনের পথে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার বিভিন্ন গ্রাম

নদী ভাঙ্গনে ভুক্তভোগী মানুষের আহাজারি
আমার মায়ের কবরটার অস্তিত্বও নেই। ঘর থেকে নদীর দুরত্ব মাত্র ৫ হাত। এইতো কয়েক দিন আগেই আমার ভাই প্রায় ২/৩ লক্ষ টাকা খরচ করে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তোলে। সেই ঘরটাও এখন যেকোন মূহুর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। আমার বাবার প্রায় ১-১৫০ শতাংশ জমি এই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমার দাদা,দাদী,ফুফু,বাবা, সবার কবরই নদীর ভয়াল গ্রাসে কেড়ে নিয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শাফিন আমান।

সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ। নদী পাড়ের ১০গ্রামে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা শতশত পরিবার। দফায় দফায় বাড়ি ছেড়েও রক্ষা মিলছে না। বর্ষা মৌসুম আসলেই শংস্কায় দিন কাটে নদী পাড়ের মানুষের।

এলাকাবাসী জানায়, সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার তাদের মাথা গোজার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারিয়ে আজ তারা দিশে হারা। এক সময়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নদীর ভয়াল গ্রাসে সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার
তিমিরকাঠি,খোজাখালি,মল্লিকপুর,
সিকদারপাড়া,বহরমপুর,ষাটপাকিয়া,কাঠিপাড়া,অনুরাগসহ ১০টিরও বেশি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এরমধ্যে খোজাখালি, দরিরচর ও তিমিরকাঠি এই তিনটি গ্রামের সম্পূর্নরুপে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিকদারপাড়া গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
শুধু ঘড়বাড়ি নয়, নদী গর্ভে বিলিনের পথে নলছিটি- দপদপিয়া আঞ্চলিক সড়কও। কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে
যা কোন কাজে আসছে না।

এ ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম.নিলয় পাশা বলেন, নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম পর্যায়ে ৭টি স্থানে ১৩কিঃমিঃ এলাকায় ডাম্পিংয়ের জন্য ৮শ ৫৫কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে নদী পাড়ের মানুষজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আশা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুগন্ধা নদীর ভয়াল থাবায় ভিলিনের পথে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার বিভিন্ন গ্রাম

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩

সুগন্ধা নদীর ভয়াল থাবায় ভিলিনের পথে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার বিভিন্ন গ্রাম

নদী ভাঙ্গনে ভুক্তভোগী মানুষের আহাজারি
আমার মায়ের কবরটার অস্তিত্বও নেই। ঘর থেকে নদীর দুরত্ব মাত্র ৫ হাত। এইতো কয়েক দিন আগেই আমার ভাই প্রায় ২/৩ লক্ষ টাকা খরচ করে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তোলে। সেই ঘরটাও এখন যেকোন মূহুর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। আমার বাবার প্রায় ১-১৫০ শতাংশ জমি এই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমার দাদা,দাদী,ফুফু,বাবা, সবার কবরই নদীর ভয়াল গ্রাসে কেড়ে নিয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শাফিন আমান।

সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ। নদী পাড়ের ১০গ্রামে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা শতশত পরিবার। দফায় দফায় বাড়ি ছেড়েও রক্ষা মিলছে না। বর্ষা মৌসুম আসলেই শংস্কায় দিন কাটে নদী পাড়ের মানুষের।

এলাকাবাসী জানায়, সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার তাদের মাথা গোজার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারিয়ে আজ তারা দিশে হারা। এক সময়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নদীর ভয়াল গ্রাসে সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার
তিমিরকাঠি,খোজাখালি,মল্লিকপুর,
সিকদারপাড়া,বহরমপুর,ষাটপাকিয়া,কাঠিপাড়া,অনুরাগসহ ১০টিরও বেশি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এরমধ্যে খোজাখালি, দরিরচর ও তিমিরকাঠি এই তিনটি গ্রামের সম্পূর্নরুপে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিকদারপাড়া গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
শুধু ঘড়বাড়ি নয়, নদী গর্ভে বিলিনের পথে নলছিটি- দপদপিয়া আঞ্চলিক সড়কও। কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে
যা কোন কাজে আসছে না।

এ ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম.নিলয় পাশা বলেন, নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম পর্যায়ে ৭টি স্থানে ১৩কিঃমিঃ এলাকায় ডাম্পিংয়ের জন্য ৮শ ৫৫কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে নদী পাড়ের মানুষজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আশা করি।