ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কঠোর লড়াই: তিন দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি, মনোনয়ন জমা ৯ শতাধিক

আরব দেশে দাশি বান্দির কাজে যাওয়ার চেয়ে নিজের দেশে চানাচুর বিক্রি ভালো

রিপোর্টার: হৃদয় চৌধুরী
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: হৃদয় চৌধুরী

বিদেশে দাশি বান্দির (গৃহকর্মী) কাজ করতে গিয়ে হাজারো নারী প্রতিদিন নানা রকম নিপীড়ন, শোষণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। অনেকে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় সবকিছু ছেড়ে আরব দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—মানসিক যন্ত্রণা, শারীরিক নির্যাতন আর মানবেতর জীবন তাদের প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে।
অন্যদিকে, সামান্য পুঁজি নিয়েও নিজের দেশে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করলে জীবনমান যেমন উন্নত হয়, তেমনি সম্মানও অক্ষুণ্ণ থাকে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—চানাচুর, মুড়ি কিংবা অন্যান্য দেশীয় খাবার বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলার হাটবাজারে চানাচুর বিক্রি আজ একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পুঁজিতে চানাচুর বিক্রি শুরু করা যায়। এ থেকে দৈনিক গড়ে ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। মাস শেষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘরে তুলতে পারেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এতে পরিবারের চাহিদা মেটে, সন্তানদের পড়াশোনা করানো যায়, আর সবচেয়ে বড় কথা—কষ্ট করে হলেও নিজের দেশে পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই জীবন যাপন সম্ভব হয়।
গ্রামীণ অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। বিদেশে গিয়ে দাশি বান্দির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার পরিবর্তে যদি স্থানীয় পর্যায়ে সরকার ও সমাজ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে, তবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নারীরা নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন।
সচেতন মহল বলছে, “বিদেশে গিয়ে নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে নিজ দেশে চানাচুর বিক্রি অনেক ভালো। এখানে আছে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা আর আত্মসম্মান।”
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো নারী আজ এ উপলব্ধি করছেন—নিজের দেশে সামান্য ব্যবসা করেও সুখে বেঁচে থাকা যায়, বিদেশে গিয়ে দাসী হওয়ার চেয়ে সেটাই শ্রেয়।
👉

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আরব দেশে দাশি বান্দির কাজে যাওয়ার চেয়ে নিজের দেশে চানাচুর বিক্রি ভালো

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

রিপোর্টার: হৃদয় চৌধুরী

বিদেশে দাশি বান্দির (গৃহকর্মী) কাজ করতে গিয়ে হাজারো নারী প্রতিদিন নানা রকম নিপীড়ন, শোষণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। অনেকে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় সবকিছু ছেড়ে আরব দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—মানসিক যন্ত্রণা, শারীরিক নির্যাতন আর মানবেতর জীবন তাদের প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে।
অন্যদিকে, সামান্য পুঁজি নিয়েও নিজের দেশে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করলে জীবনমান যেমন উন্নত হয়, তেমনি সম্মানও অক্ষুণ্ণ থাকে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—চানাচুর, মুড়ি কিংবা অন্যান্য দেশীয় খাবার বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলার হাটবাজারে চানাচুর বিক্রি আজ একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পুঁজিতে চানাচুর বিক্রি শুরু করা যায়। এ থেকে দৈনিক গড়ে ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। মাস শেষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘরে তুলতে পারেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এতে পরিবারের চাহিদা মেটে, সন্তানদের পড়াশোনা করানো যায়, আর সবচেয়ে বড় কথা—কষ্ট করে হলেও নিজের দেশে পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই জীবন যাপন সম্ভব হয়।
গ্রামীণ অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। বিদেশে গিয়ে দাশি বান্দির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার পরিবর্তে যদি স্থানীয় পর্যায়ে সরকার ও সমাজ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে, তবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নারীরা নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন।
সচেতন মহল বলছে, “বিদেশে গিয়ে নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে নিজ দেশে চানাচুর বিক্রি অনেক ভালো। এখানে আছে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা আর আত্মসম্মান।”
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো নারী আজ এ উপলব্ধি করছেন—নিজের দেশে সামান্য ব্যবসা করেও সুখে বেঁচে থাকা যায়, বিদেশে গিয়ে দাসী হওয়ার চেয়ে সেটাই শ্রেয়।
👉