ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কঠোর লড়াই: তিন দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি, মনোনয়ন জমা ৯ শতাধিক

নাগরপুরে একই আঙ্গিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

নাগরপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫২ বার পড়া হয়েছে

নাগরপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যুগের পর যুগ ধরে একই আঙিনায় পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে ধর্ম চর্চা চলে আসছে, যা দেশের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সোমবার নাগরপুরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান। এসময় তিনি নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দূর্গা মন্দির এবং এর পাশেই অবস্থিত নাগরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঘুরে দেখেন।

জানা যায়, প্রায় ৫৭ বছর আগে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখানে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। একই আঙিনায় প্রায় ছয় দশক আগে স্থাপিত হয় নাগরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ। এরপর থেকেই হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ ধর্ম চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এখানকার মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। আজানের ধ্বনি শুরু হলে পূজার শঙ্খ-ঢাক থেমে যায়, নামাজ শেষে আবার পূজা শুরু হয়। একইভাবে পূজা চলাকালীন সময়ে মুসল্লিরা নামাজ ছাড়া অন্য ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। প্রতিমা দর্শনে আগত ভক্তরাও অনেক সময় মসজিদের আঙিনায় অবস্থান করেন।

এখানকার হিন্দু-মুসলিমরা যুগের পর যুগ একে অপরের ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে। কোনোদিন সহিংসতা তো দূরের কথা, বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেনি। স্থানীয়রা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এই সম্প্রীতির বন্ধন আগামী প্রজন্মের জন্য অটুট রাখবেন।

এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে মোট ১২৬টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান, উপজেলা বিএনপি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হবি, জামায়াতে ইসলামী নাগরপুর শাখার আমীর মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সালাম, ইসলামী আন্দোলনের আকিনুর মিয়া,এন সিপির প্রধান সমম্বয়কারী সরদার আশরাফ সহ সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাগরপুরে একই আঙ্গিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নাগরপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যুগের পর যুগ ধরে একই আঙিনায় পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে ধর্ম চর্চা চলে আসছে, যা দেশের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সোমবার নাগরপুরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান। এসময় তিনি নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দূর্গা মন্দির এবং এর পাশেই অবস্থিত নাগরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঘুরে দেখেন।

জানা যায়, প্রায় ৫৭ বছর আগে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখানে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। একই আঙিনায় প্রায় ছয় দশক আগে স্থাপিত হয় নাগরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ। এরপর থেকেই হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ ধর্ম চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এখানকার মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। আজানের ধ্বনি শুরু হলে পূজার শঙ্খ-ঢাক থেমে যায়, নামাজ শেষে আবার পূজা শুরু হয়। একইভাবে পূজা চলাকালীন সময়ে মুসল্লিরা নামাজ ছাড়া অন্য ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। প্রতিমা দর্শনে আগত ভক্তরাও অনেক সময় মসজিদের আঙিনায় অবস্থান করেন।

এখানকার হিন্দু-মুসলিমরা যুগের পর যুগ একে অপরের ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে। কোনোদিন সহিংসতা তো দূরের কথা, বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেনি। স্থানীয়রা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এই সম্প্রীতির বন্ধন আগামী প্রজন্মের জন্য অটুট রাখবেন।

এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে মোট ১২৬টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান, উপজেলা বিএনপি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হবি, জামায়াতে ইসলামী নাগরপুর শাখার আমীর মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সালাম, ইসলামী আন্দোলনের আকিনুর মিয়া,এন সিপির প্রধান সমম্বয়কারী সরদার আশরাফ সহ সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের সদস্যরা।