ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন

নাগরপুরে নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজার 

সিপন রানা নাগরপুর ( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গত দুই সপ্তাহে ৩ দফায় বেড়েছে চালের দাম। আটাশ, উনত্রিশ, মিনিকেটসহ বস্তা প্রতি চালের প্রকারভেদে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এতে মরার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা মানুষের। মিস্ত্রির কাজ করি। দিনে যা ইনকাম হয় তা দিয়ে দুইবেলা খাবার জোটে না। সবজির যে দাম তাতে আলুভর্তা দিয়ে এখন ভাত খাওয়া মুশকিল। তার ওপর চালের দাম বাড়ছে। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? বাসায় মা ও স্ত্রী অপেক্ষা করছে বাজার করে নিয়ে গেলে খাবে, সেটা তো হচ্ছে না। আবেগকে খুব কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করে এভাবেই জীবনের কঠিন বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ শাহআলম। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির মধ্যে নতুন করে চালের দাম বৃদ্ধির আঘাতটা নিতে পারেননি তিনি। বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে স্পষ্টভাবে। সংসার চালানোর দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরাতে পারবেন না, তাই দিনের রোজগারের অর্ধেক দিয়ে বাসায় বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী মুখে ভাত তুলে দিতে মাত্র দুই কেজি চাল কিনে ঘরে ফিরছিলেন তিনি। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মোহাম্মদ শাহআলম  এর মত খেটে খাওয়া মানুষের এমন করুণ অভিযোগ বেশ পুরনো। বুধবার (২৩অক্টোবর) নাগরপুর সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিআর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৮ টাকা কেজি। স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ টাকা। নাজির শাইল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ টাকা কেজি। নাগরপুর বাজারে চাল কিনতে আসা অপর এক ক্রেতা মোঃ হালিম মিয়া বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল কমবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অথচ হয়েছে তার উল্টোটা। নিত্যপণ্যের বাজারের পাশাপাশি হঠাৎ কেন অস্থির হলো চালের বাজার? কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করে এ বাজার?নাগরপুর বাজার চাল ব্যবসায়ী মেসার্স নাগরপুর রাইস মিলঃ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ বাবু মিয়া। বহু বছর ধরে পাইকারি চাল বিক্রির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। বৃষ্টিবাদলে চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মিল মালিকরা অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। চালের দাম বাড়া-কমার খেলা খেলে মিল মালিকরা। আমাদের হাতে কিছু নাই। বাজারে তো মালের সংকট নাই। অথচ বিক্রি নাই। বন্যার কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে দামটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা বস্তা প্রতি একটু লাভ পাইলে মাল ছেড়ে দেই।তথ্য বলছে, টাঙ্গাইলসহ হাতেগোনা কয়েকটি জেলা থেকে সারাদেশেই সরবরাহ হয় চাল। আর এসব চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মিল মালিকরাই।ধান মজুদ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কোন নিয়মনীতি না থাকায় বছরজুড়েই ধানের মজুদ ও সরবরাহ জিম্মি থাকে মিল মালিকদের হাতে। এছাড়া এ খাতে ব্যবহৃত পরিবহন ভাড়াও নির্ধারণ করে মিল মালিকরা। ফলে এর বড় প্রভাব পড়ে চালের দামে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাগরপুরে নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজার 

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গত দুই সপ্তাহে ৩ দফায় বেড়েছে চালের দাম। আটাশ, উনত্রিশ, মিনিকেটসহ বস্তা প্রতি চালের প্রকারভেদে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এতে মরার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা মানুষের। মিস্ত্রির কাজ করি। দিনে যা ইনকাম হয় তা দিয়ে দুইবেলা খাবার জোটে না। সবজির যে দাম তাতে আলুভর্তা দিয়ে এখন ভাত খাওয়া মুশকিল। তার ওপর চালের দাম বাড়ছে। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? বাসায় মা ও স্ত্রী অপেক্ষা করছে বাজার করে নিয়ে গেলে খাবে, সেটা তো হচ্ছে না। আবেগকে খুব কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করে এভাবেই জীবনের কঠিন বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ শাহআলম। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির মধ্যে নতুন করে চালের দাম বৃদ্ধির আঘাতটা নিতে পারেননি তিনি। বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে স্পষ্টভাবে। সংসার চালানোর দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরাতে পারবেন না, তাই দিনের রোজগারের অর্ধেক দিয়ে বাসায় বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী মুখে ভাত তুলে দিতে মাত্র দুই কেজি চাল কিনে ঘরে ফিরছিলেন তিনি। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মোহাম্মদ শাহআলম  এর মত খেটে খাওয়া মানুষের এমন করুণ অভিযোগ বেশ পুরনো। বুধবার (২৩অক্টোবর) নাগরপুর সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিআর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৮ টাকা কেজি। স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ টাকা। নাজির শাইল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ টাকা কেজি। নাগরপুর বাজারে চাল কিনতে আসা অপর এক ক্রেতা মোঃ হালিম মিয়া বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল কমবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অথচ হয়েছে তার উল্টোটা। নিত্যপণ্যের বাজারের পাশাপাশি হঠাৎ কেন অস্থির হলো চালের বাজার? কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করে এ বাজার?নাগরপুর বাজার চাল ব্যবসায়ী মেসার্স নাগরপুর রাইস মিলঃ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ বাবু মিয়া। বহু বছর ধরে পাইকারি চাল বিক্রির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। বৃষ্টিবাদলে চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মিল মালিকরা অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। চালের দাম বাড়া-কমার খেলা খেলে মিল মালিকরা। আমাদের হাতে কিছু নাই। বাজারে তো মালের সংকট নাই। অথচ বিক্রি নাই। বন্যার কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে দামটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা বস্তা প্রতি একটু লাভ পাইলে মাল ছেড়ে দেই।তথ্য বলছে, টাঙ্গাইলসহ হাতেগোনা কয়েকটি জেলা থেকে সারাদেশেই সরবরাহ হয় চাল। আর এসব চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মিল মালিকরাই।ধান মজুদ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কোন নিয়মনীতি না থাকায় বছরজুড়েই ধানের মজুদ ও সরবরাহ জিম্মি থাকে মিল মালিকদের হাতে। এছাড়া এ খাতে ব্যবহৃত পরিবহন ভাড়াও নির্ধারণ করে মিল মালিকরা। ফলে এর বড় প্রভাব পড়ে চালের দামে।