বিশ্বকাপের শেষ উদ্বোধনী উৎসবে তারকাদের ঝলক, মাঠে নামছে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার মেহেদুল সরকার
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী উৎসবের শেষ অধ্যায়ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকো সিটি ও টরন্টোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত SoFi Stadium-এ অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের পরই মাঠে গড়ায় ‘ডি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ, যেখানে স্বাগতিক United States men’s national soccer team মুখোমুখি হয় Paraguay national football team-এর।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই আসর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১৯৯৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করছে দেশটি। সে কারণেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকরা অনুষ্ঠানটিকে ফুটবল ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা হিসেবে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশ আলোকিত করে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীত তারকা। মঞ্চ মাতান Katy Perry, Future, Anitta, Lisa, Rema এবং Tyla। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর কাড়ে।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে Gianni Infantino বলেন, শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়, অভিবাসীদের বৈচিত্র্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে দেশটির অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই আয়োজন শুধু ফুটবল নয়, বরং সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং বৈশ্বিক ঐক্যেরও এক উদযাপন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর এখন সবার দৃষ্টি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের দিকে। দুই দলই একে অপরের পরিচিত প্রতিপক্ষ। গত বছরের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে কোচ Mauricio Pochettino-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ গোলের জয় পেয়েছিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায় স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স এবং কয়েকটি চমকপ্রদ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসেও যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের লড়াইয়ের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপেই দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রায় এক শতাব্দী পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ।
ফুটবল, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা নিয়ে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞে এখন অপেক্ষা কেবল মাঠের লড়াইয়ের। উদ্বোধনী উৎসবের আলো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে, আর সেই আলোর পথ ধরেই শুরু হলো বিশ্বকাপের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

























