ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কঠোর লড়াই: তিন দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি, মনোনয়ন জমা ৯ শতাধিক

শিক্ষকতার শেষ কর্মদিবসে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে ফারুক আহমদ কাঁদলেন, সকলকে কাঁদালেন

রুবেল আহমদ সিলেট জেলা প্রতিনিধি 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার লুৎমহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো: ফারুক আহমদ এর অবসর জনিত এক বিরল আড়ম্বরপূর্ণ বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।জীবনের দুটি কঠিন সময়ের একটি প্রথমবারের জন্য ‘হ্যালো’ আর শেষবারের জন্য বিদায় । তবে এ বিদায় কর্মজীবন ইতি টানার। তাতে-ও কী, যেকোনও বিদায় বেদনার।

৩০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিন, বুধবার (৩০শে অক্টোবর) সকালে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীগণ অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়ী শিক্ষকের সংবর্ধনা প্রদানকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শিক্ষকের প্রতি এই ধরনের বিরল সংবর্ধনা ও সম্মাননা সহসা চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অশ্রুসজল ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করে।

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো: ফারুক আহমদ এর বিদায়ী অনুষ্ঠানে সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কথা।

বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষকগণ বিদায় বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যতে তিনি স্বীকার করে, এই ভালোবাসার কাছে আজীবন ঋণী তিনি। এ সময় তিনি বলেন চলার পথে যখন দেখা হবে। ভেবে নিও আমিও তোমাদের একজন ছিলাম।

এত সুন্দর আয়োজনে ফারুক আহমদ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের এ ভালোবাসা ভূলবার নয়।

অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ ও সালমান আহমদের পরিচালনায় জনাব ফয়জুল হক (সরকার) এর সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি। এর আগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনাব যোবায়ের আহমদের ডাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী আয়াছ, পিপলু, সৌরভ, নুর মোহাম্মদ, ফেরদৌস, মনির, রুহেল, সালমান, কালাম, সুহান, আশরাফুল, রাহিম, রেহান, সানি, আব্দুর রহমান, শানু প্রমুখ একত্রিত হয়ে তাদের প্রিয় স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান সফল করার সিদ্ধান্ত নেন।

সর্বমহলে প্রশংসা করা হচ্ছে একজন শিক্ষক যেন তার প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন। এ যেন শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতারই এক বহি: প্রকাশ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের প্রিয় স্যারকে সাজানো গাড়ি দিয়ে স্যারের বাড়িতে পৌছে দেয়। অত্র বিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অত্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ডাক দেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনাব যোবায়ের আহমদ। পরিশেষে তিনি সকলের সু স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিক্ষকতার শেষ কর্মদিবসে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে ফারুক আহমদ কাঁদলেন, সকলকে কাঁদালেন

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার লুৎমহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো: ফারুক আহমদ এর অবসর জনিত এক বিরল আড়ম্বরপূর্ণ বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।জীবনের দুটি কঠিন সময়ের একটি প্রথমবারের জন্য ‘হ্যালো’ আর শেষবারের জন্য বিদায় । তবে এ বিদায় কর্মজীবন ইতি টানার। তাতে-ও কী, যেকোনও বিদায় বেদনার।

৩০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিন, বুধবার (৩০শে অক্টোবর) সকালে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীগণ অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়ী শিক্ষকের সংবর্ধনা প্রদানকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শিক্ষকের প্রতি এই ধরনের বিরল সংবর্ধনা ও সম্মাননা সহসা চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অশ্রুসজল ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করে।

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো: ফারুক আহমদ এর বিদায়ী অনুষ্ঠানে সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কথা।

বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষকগণ বিদায় বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যতে তিনি স্বীকার করে, এই ভালোবাসার কাছে আজীবন ঋণী তিনি। এ সময় তিনি বলেন চলার পথে যখন দেখা হবে। ভেবে নিও আমিও তোমাদের একজন ছিলাম।

এত সুন্দর আয়োজনে ফারুক আহমদ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের এ ভালোবাসা ভূলবার নয়।

অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ ও সালমান আহমদের পরিচালনায় জনাব ফয়জুল হক (সরকার) এর সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি। এর আগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনাব যোবায়ের আহমদের ডাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী আয়াছ, পিপলু, সৌরভ, নুর মোহাম্মদ, ফেরদৌস, মনির, রুহেল, সালমান, কালাম, সুহান, আশরাফুল, রাহিম, রেহান, সানি, আব্দুর রহমান, শানু প্রমুখ একত্রিত হয়ে তাদের প্রিয় স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান সফল করার সিদ্ধান্ত নেন।

সর্বমহলে প্রশংসা করা হচ্ছে একজন শিক্ষক যেন তার প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন। এ যেন শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতারই এক বহি: প্রকাশ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের প্রিয় স্যারকে সাজানো গাড়ি দিয়ে স্যারের বাড়িতে পৌছে দেয়। অত্র বিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অত্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ডাক দেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনাব যোবায়ের আহমদ। পরিশেষে তিনি সকলের সু স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।