ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দূর্নীতি অনিয়মের পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  ডা. মাহমুদা মিতু: চিকিৎসক থেকে জনমানুষের রাজনীতির অনুপ্রেরণা ফেক আইডি ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শাহবাগ থানায় জিডি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন। 

সংগ্রাম, ত্যা/গ আর র/ক্তে/র ইতিহাসে লেখা এক পরিবার: জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া

রিপোর্ট: রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্ট: রফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কেবল ক্ষমতার গল্প নয়—এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ অধ্যায়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রমী এক নেতা। ব্যক্তিগত বিলাসিতা থেকে তিনি ছিলেন বহু দূরে। রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি কখনো সরকারি গাড়ি কেনেননি। অনেক সময় পায়ে হেঁটে, কখনো রিকশায় চড়েই অফিসে যেতেন—যা আজকের রাজনীতিতে বিরল এক দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষের জন্য খাল খনন, অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল তাঁর জীবনের গর্বের অধ্যায়।
কিন্তু সেই দেশপ্রেমিক নেতাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ে তাঁকে সপরিবারে হারাতে হয় জাতিকে। অনেকের মতে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তি—যাদের জনগণ ‘হায়েনার দল’ বলে আখ্যায়িত করে—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল।
এরপর শুরু হয় আরেক সংগ্রাম—বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম। স্বামী হত্যার বেদনা বুকে নিয়েও তিনি রাজপথে নেমেছেন দেশের মানুষের অধিকারের জন্য। দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন, সহ্য করেছেন একের পর এক মামলা ও মিথ্যা অপবাদ। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই সময়ে দেশের মানুষও কম কষ্ট পায়নি। আন্দোলন-সংগ্রামে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, অসংখ্য পরিবার সন্তানহারা ও ঘরছাড়া হয়েছে। তবুও রাজপথ ছাড়েনি বিরোধী শক্তি। নিজের হাতে ব্যানার তুলে সাধারণ মানুষই নেমে এসেছে রাস্তায়—ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দাবিতে।
আজ দৃশ্যপট বদলাচ্ছে। যারা একসময় দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। কিন্তু ক্ষত এখনো রয়ে গেছে—মায়ের চোখের পানি শুকায়নি, বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি তাদের কষ্টের কথা।
এই প্রতিবেদন শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের কথা নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘ লড়াই, বেদনা ও প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংগ্রাম, ত্যা/গ আর র/ক্তে/র ইতিহাসে লেখা এক পরিবার: জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

রিপোর্ট: রফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কেবল ক্ষমতার গল্প নয়—এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ অধ্যায়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রমী এক নেতা। ব্যক্তিগত বিলাসিতা থেকে তিনি ছিলেন বহু দূরে। রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি কখনো সরকারি গাড়ি কেনেননি। অনেক সময় পায়ে হেঁটে, কখনো রিকশায় চড়েই অফিসে যেতেন—যা আজকের রাজনীতিতে বিরল এক দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষের জন্য খাল খনন, অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল তাঁর জীবনের গর্বের অধ্যায়।
কিন্তু সেই দেশপ্রেমিক নেতাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ে তাঁকে সপরিবারে হারাতে হয় জাতিকে। অনেকের মতে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তি—যাদের জনগণ ‘হায়েনার দল’ বলে আখ্যায়িত করে—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল।
এরপর শুরু হয় আরেক সংগ্রাম—বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম। স্বামী হত্যার বেদনা বুকে নিয়েও তিনি রাজপথে নেমেছেন দেশের মানুষের অধিকারের জন্য। দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন, সহ্য করেছেন একের পর এক মামলা ও মিথ্যা অপবাদ। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই সময়ে দেশের মানুষও কম কষ্ট পায়নি। আন্দোলন-সংগ্রামে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, অসংখ্য পরিবার সন্তানহারা ও ঘরছাড়া হয়েছে। তবুও রাজপথ ছাড়েনি বিরোধী শক্তি। নিজের হাতে ব্যানার তুলে সাধারণ মানুষই নেমে এসেছে রাস্তায়—ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দাবিতে।
আজ দৃশ্যপট বদলাচ্ছে। যারা একসময় দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। কিন্তু ক্ষত এখনো রয়ে গেছে—মায়ের চোখের পানি শুকায়নি, বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি তাদের কষ্টের কথা।
এই প্রতিবেদন শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের কথা নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘ লড়াই, বেদনা ও প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।