ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কঠোর লড়াই: তিন দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি, মনোনয়ন জমা ৯ শতাধিক

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে বৈষম্যের প্রতিবাদে ৪৭ দিন ধরে আমরণ অনশন — জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় কান্নার আহাজারি

রিপোর্টার: মাহাবুব আলম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: মাহাবুব আলম

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফলে চরম বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং সনদ প্রদানের দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচি আজ ৪৭ দিনে গড়িয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীরা দিনের পর দিন রোদে- বৃষ্টিতে অনশন পালন করছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াননি কেউই।

অনশনরত প্রার্থীদের দাবি, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফলাফল প্রকাশে অন্যায্যতা করা হয়েছে। একই যোগ্যতা ও নম্বর থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীকে সনদ দেওয়া হয়নি, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা বলেন, “আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, ভাইভা দিয়েছি। এখন শুধুমাত্র সনদ withheld করে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ফেলা হচ্ছে।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেখা গেছে, প্রার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে “সনদ চাই, ন্যায় বিচার চাই” শ্লোগান তুলছেন। অনেকে রাস্তায় বসে চোখের পানি ফেলছেন, কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন অনাহারে দুর্বল হয়ে।
একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম, সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। অথচ এখন আমরা রাস্তায় পড়ে আছি সনদের জন্য। এই কি আমাদের প্রাপ্য?”

প্রতিবাদকারীরা আরও জানান, তারা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি পাননি।

অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিক ও পথচারীরা এ দৃশ্য দেখে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পানি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করছেন।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন—আমরা সনদ নিয়েই বাড়ি ফিরতে চাই। কেউ যেন আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি উপেক্ষা না করে।”

৪৭ দিন অতিক্রম করেও আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন থেকে ফিরে যাবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে বৈষম্যের প্রতিবাদে ৪৭ দিন ধরে আমরণ অনশন — জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় কান্নার আহাজারি

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রিপোর্টার: মাহাবুব আলম

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফলে চরম বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং সনদ প্রদানের দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচি আজ ৪৭ দিনে গড়িয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীরা দিনের পর দিন রোদে- বৃষ্টিতে অনশন পালন করছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াননি কেউই।

অনশনরত প্রার্থীদের দাবি, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফলাফল প্রকাশে অন্যায্যতা করা হয়েছে। একই যোগ্যতা ও নম্বর থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীকে সনদ দেওয়া হয়নি, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা বলেন, “আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, ভাইভা দিয়েছি। এখন শুধুমাত্র সনদ withheld করে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ফেলা হচ্ছে।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেখা গেছে, প্রার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে “সনদ চাই, ন্যায় বিচার চাই” শ্লোগান তুলছেন। অনেকে রাস্তায় বসে চোখের পানি ফেলছেন, কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন অনাহারে দুর্বল হয়ে।
একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম, সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। অথচ এখন আমরা রাস্তায় পড়ে আছি সনদের জন্য। এই কি আমাদের প্রাপ্য?”

প্রতিবাদকারীরা আরও জানান, তারা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি পাননি।

অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিক ও পথচারীরা এ দৃশ্য দেখে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পানি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করছেন।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন—আমরা সনদ নিয়েই বাড়ি ফিরতে চাই। কেউ যেন আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি উপেক্ষা না করে।”

৪৭ দিন অতিক্রম করেও আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন থেকে ফিরে যাবেন না।