জেমস ক্যামেরন টাইটান দূর্ঘটনা সম্পর্কে যা বললেন

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩ ১২০ বার পড়া হয়েছে

অস্কারজয়ী সিনেমা টাইটানিক এর নিমার্তা জেমস ক্যামেরন টাইটান দূর্ঘটনায় পাঁচ আরোহী নিহতের ঘটনায় মুখ খুললেন। ডুবোযানের নিমার্তাদের আগেই সর্তক করেছিলেন এ ঝুঁকির ব্যাপারে। টাইটানের বহিরাবরণের গঠনের ত্রুটি সম্পর্কে তিনি আগেই সন্দিহান ছিলেন। গত কাল বৃহস্পতিবার বাতা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। তখন এ ব্যাপারে জোরালো আপত্তি না করায় এখন তিনি আফসোস করেন। নব্বইয়ের দশকে টাইটানিক সিনেমা নির্মাণ করেন হলিউড নির্মাতা জেমস ক্যামেরন সিনেমা নির্মানের আগে ই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে কয়ক বার গভীর সমুদ্রে গিয়েছিলেন। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষে দেখতে ক্যামরন ৩৩ বারের মত আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে গিয়েছিলেন।ক্যামেরন ট্রাইটন সাবমেরিন প্রতিষ্ঠানের মালিক যা গভীর সমুদ্রে পর্যটনের সেবা দেয়। ক্যামেরন বলেন, গর রবিবার টাইটান যখন নিখোঁজ হয়, তখন তিনি একটি জাহাজে ছিলেন। তখন তিনি টাইটানের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কিছু ই জানতেন না। যখন তিনি জানতে পারেন, সাবমেরিন টি একই সময়ে নেভিগেশন যোগাযোগ উভয় হারিয়েছে বলে ধারনা করেব এবং সাবমেরিন টি বিপর্যয়ের আশাঙ্ক রয়েছে। সাবমেরিন নির্মাতা ত্রুটি কথা উল্লেখ করেন ক্যামেরন। আমি যখন শুনলাম, ওশানগেট একটি কার্বন ফাইবার ও টাইটানিয়াম দিয়ে সাবমার্সিবল তৈরি করেছে তখন ই বলেছিলাম এটি ঝুকিপূর্ণ। এ সব উপাদান দিয়ে ডুবোযানের বহিরাবরণ তৈরি করলে প্রচন্ড চাপের সময় পেঁয়াজের খোসের মতো স্তরগুলো খুলে যেতে পারে। এবং অতি সুক্ষ ছিদ্র দিয়ে পানি চুইয়ে ভিতরে ঢোকার আশাঙ্কও থাকে।ক্যামেরন রয়টার্স কে বলেন, এভাবে সাবমার্সিবল তৈরি করার ধারনাটি ভয়ংকর। অন্যরা আমার চেয়ে নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান। তারা যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে তা নিয়ে পরীক্ষা – নিরীক্ষা করে নি।কী করনে টাইটান পানির নিচে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। তা তখন ধারনা পাওয়া যায় নি।ক্যামেরনের ধারনা কার্বন ফাইবার ও টাইটানিয়ামের খোকসের কারনে এমন দূর্ঘটনা ঘটে পারে। ক্যামেরন ১৯১২ সালের দূর্ঘটনার সঙ্গে এ দূর্ঘটনা মিলেয়ে দেখেছেন। তবে এই দুই দূর্ঘটনা ঘটে সতক না মানার কারনে। ক্যামেরন বলেন,মার্কিন কোম্পানি ওশানগেট কে ২০১৮ সালের মার্চে মেরিন টেকনোলজি সোসইটি সর্তক করেছিলেন। সে সময় কোম্পানি সাবেক কর্মকর্তা দের কোন কারন ছাড়াই পদত্যাগ করিয়ে ছিলেন।শুধু ক্যামেরন নয়,মার্কিন আদালতের প্রকাশিত রেকর্ড জানা যায়, ওশানগেটের সাবেক এক কর্মকর্তা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ডুবোযানটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে সর্তক করেছিলেন। গত রবিবার টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পানির নিচে ডুবোযানের চড়ে রওনা হয় অভিযাত্রী দলটি।ব্রিটিশ হামিশ হাডিং ছাড়া এই দলে ছিলেন পাকিস্তানি বিলিয়নিয়ার ব্যবসী শাহাজাদা দাউদ ও ১৯ বছর বয়সী তার ছেলে সুলেমান। এ ছাড়া চালক ও এক জন গাইডও ছিলেন ডুবোযানটিতে। প্রায় ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠ মূল জাহাজের সঙ্গে ডুবোযানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডুবো জাহাজ টির ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড।প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয় পাঁচ আরোহী মৃত্যু কথা। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়,টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ আশেপাশে টাইটান সাবমেরিনের বড় পাঁচ টি টুকরোর সন্ধান পাওয়া যায়। সাবমেরিন টা বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তা বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছেন, গত রবিবার ওই সাবমেরিন নিখোজ হওয়ার কিছু পরই অন্তমুখী বিস্ফোরণ হয়েছিল গোপন অ্যাকুস্টি মনিটরিং সিস্টেমের মাধয়মে রেকর্ড করা হয়। জেমন ক্যামেরন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,আমি পৃথিবীর এমন জায়গায় যাচ্ছি যোগাযোগ করা কঠিন। রুশ মালিকানাধীন একটি সাবমার্সিবলে চেপে ১৯৯৫ সালে প্রথম সাগরে তলদেশে গিয়েছিলেন ক্যামেরন উদ্দেশ্য ছিলো টাইটানিক সিনেমার জন্য ফুটেজ ধারন করা।
















