পাহাড়ী ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, গর্ববতী নারীর মৃত্যু।

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪ ৭১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানির প্রবল স্রোতের কারনে আখাউড়া-আগরতলা সড়কে একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বন্দরের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্য আমদানি- রফতানি কার্যক্রম। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ভবনে হাঁটুপানি জমায় যাত্রী পারাপার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্রোতের কারনে ঘরে হতে বের হতে গিয়ে আখাউড়া গর্ববতী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ীয় ঢলের পানি নেমে আসার কারনে বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় আখাউড়া স্থলবন্দরে।এতে করে স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জেলার বিজয়নগর, কসবা আখাউড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি ডুকছে। ফলে এই তিন উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা ও জলাবদ্ধতা। এদিকে সকাল থেকে স্থলবন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে তীব্র বেগে পানি ঢুকতে থাকে। এতে করে স্থলবন্দর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, কালিকাপুর, বঙ্গেরচর, সাহেব নগর, আজমপুরসহ অন্তত ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভেঙে যায় স্থলবন্দর সড়কের গাজীরবাজার এলাকার অস্থায়ী সেতু। এর আগে মঙ্গলবার খলাপাড়া এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে। অপর দিকে ঘরে বানের পানি ঢুকার কারনে বের হতে গিয়ে আখাউড়া কালিকাপুরের বীরচন্দ্রপুর এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লুৎফুর রহমান ও দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন। তারা জানান, সুবর্ণা আক্তারের ঘরে বানের পানি ঢুকে পড়ে। এসময় তিনি তাড়াহুড়ো করে সরতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই নারী মারা যান।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসী মিলে বাঁধের অংশ মেরামতের কাজ করেছেন। সেতুটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। এছাড়া ইমিগ্রেশনের কার্যক্রমও সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়ণকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে ভারি বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের কারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নিম্নাঞ্চল ও নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।এছাড়াও পৌরসভা ও শহর এলাকায় টানা বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে।
















