ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আড়াই ঘণ্টায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি, তলিয়ে গেছে যশোর শহরের অনেক এলাকা

প্রতিনিধির নাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ৭২ বার পড়া হয়েছে

যশোরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। ঘরের ভেতরে ঢুকেছে বৃষ্টির পানি, রাস্তাঘাটে হাঁটু সমান পানি। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামতে থাকে। সেইসঙ্গে লাগাতার বজ্রাঘাত।

শহরের পালবাড়ি এলাকার ইজিবাইক চালক রোস্তম আলী বলেন, এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। বৃষ্টিতো হচ্ছে, সঙ্গে বুক কাঁপানো বজ্রাঘাত। একটা ভয়ংকর অবস্থা।

এদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি। বিকাল ৪টার দিকে যশোর বিমানবন্দর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস এই তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এখনও (বিকাল ৪টা) গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সন্ধ্যায় ফোন দিলে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে। আজ আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, বিরামহীন বৃষ্টিতে যশোর পৌর শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এলাকা ডুবে গেছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

শহরের পুরাতন কসবা মসিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা মেরুনা জেসমিন বলেন, তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে আমার ঘরে ছয় ইঞ্চির মতো পানি জমেছে। বাড়ির লোকজন মিলে এখন পানি বাইরে বের করতে হচ্ছে।

শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, তাদের এলাকাসহ ষষ্টীতলা, টিবি ক্লিনিক এলাকা, চার খাম্বা মোড়, ভোলা ট্যাংক রোড, খড়কী, শংকরপুর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া শহরের স্টেডিয়ামপাড়া, মিশনপাড়া, উপশহর, চাঁচড়া, কারবালা, এমএম কলেজ এলাকা, নাজিরশংকরপুর, বকচর, আবরপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকাও বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।

যশোর সদরের আব্দুলপুর গ্রামের সবজি চাষি আমিন উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এখন ঝাল, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ইত্যাদির চারা লাগানো হচ্ছে। আমার এই সবের বীজতলা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে যেসব বীজের চারা গজায়নি, সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া গত দুই তিন যারা চারা রোপণ করেছেন, তাদের চারাও নষ্ট হবে।

তিনি বলেন, এই এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হলেও আজকের বৃষ্টিতে অনেক জমি তলিয়ে গেছে। আমার কয়েকটি বীজতলা পানির নিচে। কৃষকের বেশ ক্ষতি হয়ে গেলো।

যোগাযোগ করা হলে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শীতকালীন আগাম সবজি চাষিদের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ। এবার বৃষ্টিতে দেশে ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা আশায় বুক বেঁধে আগাম সবজি চাষে বেশ আগ্রহী হয়েছিলেন। আজকের বৃষ্টিতে তাদের বড় ক্ষতি হচ্ছে। ফসলের বিলম্ব হবে। এ ছাড়া বীজতলা বা নতুন চারা রোপণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আড়াই ঘণ্টায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি, তলিয়ে গেছে যশোর শহরের অনেক এলাকা

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪

যশোরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। ঘরের ভেতরে ঢুকেছে বৃষ্টির পানি, রাস্তাঘাটে হাঁটু সমান পানি। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামতে থাকে। সেইসঙ্গে লাগাতার বজ্রাঘাত।

শহরের পালবাড়ি এলাকার ইজিবাইক চালক রোস্তম আলী বলেন, এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। বৃষ্টিতো হচ্ছে, সঙ্গে বুক কাঁপানো বজ্রাঘাত। একটা ভয়ংকর অবস্থা।

এদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি। বিকাল ৪টার দিকে যশোর বিমানবন্দর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস এই তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এখনও (বিকাল ৪টা) গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সন্ধ্যায় ফোন দিলে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে। আজ আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, বিরামহীন বৃষ্টিতে যশোর পৌর শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এলাকা ডুবে গেছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

শহরের পুরাতন কসবা মসিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা মেরুনা জেসমিন বলেন, তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে আমার ঘরে ছয় ইঞ্চির মতো পানি জমেছে। বাড়ির লোকজন মিলে এখন পানি বাইরে বের করতে হচ্ছে।

শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, তাদের এলাকাসহ ষষ্টীতলা, টিবি ক্লিনিক এলাকা, চার খাম্বা মোড়, ভোলা ট্যাংক রোড, খড়কী, শংকরপুর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া শহরের স্টেডিয়ামপাড়া, মিশনপাড়া, উপশহর, চাঁচড়া, কারবালা, এমএম কলেজ এলাকা, নাজিরশংকরপুর, বকচর, আবরপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকাও বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।

যশোর সদরের আব্দুলপুর গ্রামের সবজি চাষি আমিন উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এখন ঝাল, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ইত্যাদির চারা লাগানো হচ্ছে। আমার এই সবের বীজতলা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে যেসব বীজের চারা গজায়নি, সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া গত দুই তিন যারা চারা রোপণ করেছেন, তাদের চারাও নষ্ট হবে।

তিনি বলেন, এই এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হলেও আজকের বৃষ্টিতে অনেক জমি তলিয়ে গেছে। আমার কয়েকটি বীজতলা পানির নিচে। কৃষকের বেশ ক্ষতি হয়ে গেলো।

যোগাযোগ করা হলে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শীতকালীন আগাম সবজি চাষিদের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ। এবার বৃষ্টিতে দেশে ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা আশায় বুক বেঁধে আগাম সবজি চাষে বেশ আগ্রহী হয়েছিলেন। আজকের বৃষ্টিতে তাদের বড় ক্ষতি হচ্ছে। ফসলের বিলম্ব হবে। এ ছাড়া বীজতলা বা নতুন চারা রোপণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।