ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভা

ফয়সাল হোসেন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আজ ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিশনে বিকাল ৪ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত “আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যুষ আসাক্রা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল।মেঘাটিলা খাসিয়া পুন্জির মন্ত্রী মনিকা খংলার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, কুবরাজ সংগঠনের উপদেষ্টা পাস্টর পাইরিন সুটিং, আগার পুঞ্জির মন্ত্রী সুখময় আমসে, বড়লেখা ৫ নং পঞ্জির মন্ত্রী কেনেডি সুমের, ৭ নং পুঞ্জিবাসী ইলিয়াস বারে, নার্সারি পুঞ্জির প্রবাস মৃং প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের পুন:মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে সমস্ত এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সে সমস্ত এলাকায় যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের অভিমত গ্রহণ ও অর্থবহ প্রতিফলনকে নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, সিলেট হচ্ছে বৈচিত্র্যময় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ এলাকা। ভুলভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে ইতিমধ্যে অনেক পুঞ্জির জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই আদিবাসীদের সুরক্ষা করতে হবে।ধরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প আদিবাসী খাসিয়াদের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করবো। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের অতীতের মত ভবিষ্যতেও লড়াই করে যেতে হবে।বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আদিবাসী নেত্রী বাবলী তালাং বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অতীতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নামে অতীতে খাসিয়াদের পান জুম দখল হয়েছে। তিনি দখলকৃত পান জুমের জায়গা খাসিয়াদের ফিরিয়ে দিতে বলেন।ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, বোনকে বনের মত প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ দিলেই বন গড়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ প্রকল্প গ্রহণ করে বনের সর্বনাশ করেছে।হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক বনায়নের নামে এমনকিছু গাছ লাগানো হয়েছিল যা উপযুক্ত নয়। এই সমস্ত গাছ কেটে সাফ করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা বলেন, বনায়ন করার কিছু নেই। বনকে ধ্বংস না করলেই বন বেঁচে থাকতো, কিন্তু বন বিনাশ করে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন কিছু না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভা

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আজ ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিশনে বিকাল ৪ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত “আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যুষ আসাক্রা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল।মেঘাটিলা খাসিয়া পুন্জির মন্ত্রী মনিকা খংলার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, কুবরাজ সংগঠনের উপদেষ্টা পাস্টর পাইরিন সুটিং, আগার পুঞ্জির মন্ত্রী সুখময় আমসে, বড়লেখা ৫ নং পঞ্জির মন্ত্রী কেনেডি সুমের, ৭ নং পুঞ্জিবাসী ইলিয়াস বারে, নার্সারি পুঞ্জির প্রবাস মৃং প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের পুন:মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে সমস্ত এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সে সমস্ত এলাকায় যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের অভিমত গ্রহণ ও অর্থবহ প্রতিফলনকে নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, সিলেট হচ্ছে বৈচিত্র্যময় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ এলাকা। ভুলভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে ইতিমধ্যে অনেক পুঞ্জির জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই আদিবাসীদের সুরক্ষা করতে হবে।ধরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প আদিবাসী খাসিয়াদের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করবো। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের অতীতের মত ভবিষ্যতেও লড়াই করে যেতে হবে।বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আদিবাসী নেত্রী বাবলী তালাং বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অতীতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নামে অতীতে খাসিয়াদের পান জুম দখল হয়েছে। তিনি দখলকৃত পান জুমের জায়গা খাসিয়াদের ফিরিয়ে দিতে বলেন।ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, বোনকে বনের মত প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ দিলেই বন গড়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ প্রকল্প গ্রহণ করে বনের সর্বনাশ করেছে।হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক বনায়নের নামে এমনকিছু গাছ লাগানো হয়েছিল যা উপযুক্ত নয়। এই সমস্ত গাছ কেটে সাফ করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা বলেন, বনায়ন করার কিছু নেই। বনকে ধ্বংস না করলেই বন বেঁচে থাকতো, কিন্তু বন বিনাশ করে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন কিছু না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।