ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

গাজীপুরে সচেতন শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

শিল্প ধ্বংসকারী, ছাত্র-শ্রমিক-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসনকারী, নারী নির্যাতনকারী এবং দেশের শিল্পের তথ্য বিদেশে পাচারকারীদের হাত থেকে শিল্প রক্ষার দাবিতে আজ বিকাল ৪টায় গাজীপুর বোর্ডবাজার বাসস্ট্যান্ডের সামনে “গাজীপুর সচেতন শ্রমিক” ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—

গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি

মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সভাপতি খুশি আক্তার

জাতীয় শ্রমিক জোট গাজীপুর জেলার সভাপতি মাসুদ মন্ডল

ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স গাজীপুর জেলার সভাপতি লুৎফর রহমান

বিগফ গাজীপুর জেলার সভাপতি আনোয়ার হোসেন
এছাড়াও ১৫টি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আমিরুল হক আমিন শিল্প ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে কাজ করছেন। তিনি ছাত্র হত্যামামলার একাধিক আসামিকে নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং আশুলিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অফিস পরিচালনা করছেন।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী—

শাহ আলম (ছাত্র হত্যার তিন মামলার আসামি) বর্তমানে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি।

শহিদুল (দুই মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা) সহ-সভাপতি।

সানি (দুই মামলার আসামি) সাধারণ সম্পাদক।

রনি, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা, কার্যকরী সদস্য।

পনির ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা, সংগঠনের নেতা।

আলমগীর ডাক্তার, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিয়াই, সংগঠনের নেতা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আমিরুল হক আমিন দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করছেন। একদিকে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করছেন, অন্যদিকে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিদেশে তথ্য পাচার করছেন। তার পাঠানো তথ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা অর্ডার হারিয়েছে ও বন্ধের পথে—

গাজীপুরের উইন্ডি গ্রুপ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

মাছিহাতা সোয়েটার লিমিটেড থেকে বায়ার সরে গেছে।

আইরিশ ফেব্রিকস লিমিটেড-এর অর্ডার কমে গেছে।

এছাড়া গত ২২ জুন জিরানী বাজার ও হেমায়েতপুরে আমিনপন্থী নেতারা গোপন বৈঠক করেন এবং এর তিন দিন পর ইপিজেড এলাকায় বেকার শ্রমিকদের দিয়ে আন্দোলন করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি বিদেশি সংস্থা ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়, যার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ঈদের আগে গ্রহণ করা হয়।

বক্তাদের মতে, আমিন সাহেব ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসন করছেন, বিদেশি অর্থায়নে শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে আছেন—

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক (আমিন সাহেবের আপন ভাগ্নি জামাই)

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি আমিরুল হক আমিনের কার্যক্রম বিশেষ নজরদারিতে না আনা হয়, তবে দেশের গার্মেন্টস শিল্প আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরে সচেতন শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

শিল্প ধ্বংসকারী, ছাত্র-শ্রমিক-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসনকারী, নারী নির্যাতনকারী এবং দেশের শিল্পের তথ্য বিদেশে পাচারকারীদের হাত থেকে শিল্প রক্ষার দাবিতে আজ বিকাল ৪টায় গাজীপুর বোর্ডবাজার বাসস্ট্যান্ডের সামনে “গাজীপুর সচেতন শ্রমিক” ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—

গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি

মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সভাপতি খুশি আক্তার

জাতীয় শ্রমিক জোট গাজীপুর জেলার সভাপতি মাসুদ মন্ডল

ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স গাজীপুর জেলার সভাপতি লুৎফর রহমান

বিগফ গাজীপুর জেলার সভাপতি আনোয়ার হোসেন
এছাড়াও ১৫টি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আমিরুল হক আমিন শিল্প ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে কাজ করছেন। তিনি ছাত্র হত্যামামলার একাধিক আসামিকে নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং আশুলিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অফিস পরিচালনা করছেন।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী—

শাহ আলম (ছাত্র হত্যার তিন মামলার আসামি) বর্তমানে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি।

শহিদুল (দুই মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা) সহ-সভাপতি।

সানি (দুই মামলার আসামি) সাধারণ সম্পাদক।

রনি, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা, কার্যকরী সদস্য।

পনির ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা, সংগঠনের নেতা।

আলমগীর ডাক্তার, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিয়াই, সংগঠনের নেতা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আমিরুল হক আমিন দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করছেন। একদিকে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করছেন, অন্যদিকে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিদেশে তথ্য পাচার করছেন। তার পাঠানো তথ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা অর্ডার হারিয়েছে ও বন্ধের পথে—

গাজীপুরের উইন্ডি গ্রুপ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

মাছিহাতা সোয়েটার লিমিটেড থেকে বায়ার সরে গেছে।

আইরিশ ফেব্রিকস লিমিটেড-এর অর্ডার কমে গেছে।

এছাড়া গত ২২ জুন জিরানী বাজার ও হেমায়েতপুরে আমিনপন্থী নেতারা গোপন বৈঠক করেন এবং এর তিন দিন পর ইপিজেড এলাকায় বেকার শ্রমিকদের দিয়ে আন্দোলন করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি বিদেশি সংস্থা ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়, যার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ঈদের আগে গ্রহণ করা হয়।

বক্তাদের মতে, আমিন সাহেব ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসন করছেন, বিদেশি অর্থায়নে শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে আছেন—

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক (আমিন সাহেবের আপন ভাগ্নি জামাই)

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি আমিরুল হক আমিনের কার্যক্রম বিশেষ নজরদারিতে না আনা হয়, তবে দেশের গার্মেন্টস শিল্প আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।