ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দূর্নীতি অনিয়মের পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  ডা. মাহমুদা মিতু: চিকিৎসক থেকে জনমানুষের রাজনীতির অনুপ্রেরণা ফেক আইডি ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শাহবাগ থানায় জিডি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন। 

নকশিকাঁথায় সেলাই করা স্বপ্ন: বরুড়ার ফৌজিয়া আজ নারী উদ্যোক্তার অনন্য দৃষ্টান্ত

রিপোর্টার : আনজার শাহ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

সুতোয় সুতোয় যেন ভালোবাসা, প্রত্যয় আর সৃষ্টির গল্প বুনছেন কুমিল্লার বরুড়ার নারী উদ্যোক্তা ফৌজিয়া আক্তার। কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা এই নারী এখন শুধু নিজের জন্য নয়, বরং শত শত নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন—নকশিকাঁথা সেলাই করে।কিন্তু তার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন তার স্বামী।তিনি বলেন,অনেকেই শুধুমাত্র একটি সুন্দর কাঁথা দেখে প্রশংসা করেন, কিন্তু আমি জানি এই কাঁথার প্রতিটি সেলাইয়ের পেছনে কতটা ধৈর্য, পরিশ্রম আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। ওর হাতের কাজ শুধু নিখুঁত নয়, তা আত্মা ছুঁয়ে যায়। আমি ওর কাজে গর্ব করি, প্রতিদিন নতুন করে ভালোবাসি।”ফৌজিয়া বলেন, “আমি নকশিকাঁথাকে শুধু পণ্য ভাবি না, এটি আমার মনের ভাষা। জীবনের গল্প, আবেগ, স্মৃতি—সব যেন ফুটে ওঠে এই সেলাইয়ে।”তিনি আরও জানান, নকশিকাঁথা সেলাইয়ের নানা রকম ফোঁড় রয়েছে—রান ফোঁড়, ডবল রান ফোঁড়, ডারনিং ফোঁড়, বোতামঘর, চেইন ফোঁড়, বেঁকি ফোঁড়, পখুরি ও তারা ফোঁড়। এসবের সমন্বয়েই জন্ম নেয় এক একটি শিল্পকর্ম।নকশার মধ্যেও আছে বৈচিত্র্য: গোলাপকাঁথা, ময়ূরের পাখাকাঁথা, বলকাঁথা, মৌমাছির চাক কাঁথা, সুজনী কাঁথা, প্রিন্ট কাঁথা—প্রত্যেকটিই একেকটি গল্প।তার স্বামী বলেন,ওর নকশিকাঁথার ফিনিশিং, রঙের ব্যবহার, আর কাজের প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। আমি শুধু তার স্বামী নই, আমি তার সবচেয়ে বড় ভক্ত। ওর চোখে যখন এক টুকরো কাপড়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে, তখন আমি শুধু তাকিয়ে দেখি। এমন মেয়ে পেয়েই আমি ধন্য।”বাড়ির উঠোনে কিংবা ঘরের কোণে যখন কয়েকজন নারী একসঙ্গে বসে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সেলাই করেন, তখন সেখানে শুধু সুতা নয়—জুড়ে যায় সম্পর্ক, স্মৃতি আর নারীর আত্মবিশ্বাস।ফৌজিয়ার এই যাত্রা প্রমাণ করে, স্বামীর সহযোগিতা আর ভালোবাসা থাকলে নারীর পথচলা হয় আরও দৃঢ়, আরও দীপ্তিময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নকশিকাঁথায় সেলাই করা স্বপ্ন: বরুড়ার ফৌজিয়া আজ নারী উদ্যোক্তার অনন্য দৃষ্টান্ত

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

সুতোয় সুতোয় যেন ভালোবাসা, প্রত্যয় আর সৃষ্টির গল্প বুনছেন কুমিল্লার বরুড়ার নারী উদ্যোক্তা ফৌজিয়া আক্তার। কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা এই নারী এখন শুধু নিজের জন্য নয়, বরং শত শত নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন—নকশিকাঁথা সেলাই করে।কিন্তু তার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন তার স্বামী।তিনি বলেন,অনেকেই শুধুমাত্র একটি সুন্দর কাঁথা দেখে প্রশংসা করেন, কিন্তু আমি জানি এই কাঁথার প্রতিটি সেলাইয়ের পেছনে কতটা ধৈর্য, পরিশ্রম আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। ওর হাতের কাজ শুধু নিখুঁত নয়, তা আত্মা ছুঁয়ে যায়। আমি ওর কাজে গর্ব করি, প্রতিদিন নতুন করে ভালোবাসি।”ফৌজিয়া বলেন, “আমি নকশিকাঁথাকে শুধু পণ্য ভাবি না, এটি আমার মনের ভাষা। জীবনের গল্প, আবেগ, স্মৃতি—সব যেন ফুটে ওঠে এই সেলাইয়ে।”তিনি আরও জানান, নকশিকাঁথা সেলাইয়ের নানা রকম ফোঁড় রয়েছে—রান ফোঁড়, ডবল রান ফোঁড়, ডারনিং ফোঁড়, বোতামঘর, চেইন ফোঁড়, বেঁকি ফোঁড়, পখুরি ও তারা ফোঁড়। এসবের সমন্বয়েই জন্ম নেয় এক একটি শিল্পকর্ম।নকশার মধ্যেও আছে বৈচিত্র্য: গোলাপকাঁথা, ময়ূরের পাখাকাঁথা, বলকাঁথা, মৌমাছির চাক কাঁথা, সুজনী কাঁথা, প্রিন্ট কাঁথা—প্রত্যেকটিই একেকটি গল্প।তার স্বামী বলেন,ওর নকশিকাঁথার ফিনিশিং, রঙের ব্যবহার, আর কাজের প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। আমি শুধু তার স্বামী নই, আমি তার সবচেয়ে বড় ভক্ত। ওর চোখে যখন এক টুকরো কাপড়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে, তখন আমি শুধু তাকিয়ে দেখি। এমন মেয়ে পেয়েই আমি ধন্য।”বাড়ির উঠোনে কিংবা ঘরের কোণে যখন কয়েকজন নারী একসঙ্গে বসে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সেলাই করেন, তখন সেখানে শুধু সুতা নয়—জুড়ে যায় সম্পর্ক, স্মৃতি আর নারীর আত্মবিশ্বাস।ফৌজিয়ার এই যাত্রা প্রমাণ করে, স্বামীর সহযোগিতা আর ভালোবাসা থাকলে নারীর পথচলা হয় আরও দৃঢ়, আরও দীপ্তিময়।