ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভা

ফয়সাল হোসেন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আজ ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিশনে বিকাল ৪ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত “আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যুষ আসাক্রা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল।মেঘাটিলা খাসিয়া পুন্জির মন্ত্রী মনিকা খংলার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, কুবরাজ সংগঠনের উপদেষ্টা পাস্টর পাইরিন সুটিং, আগার পুঞ্জির মন্ত্রী সুখময় আমসে, বড়লেখা ৫ নং পঞ্জির মন্ত্রী কেনেডি সুমের, ৭ নং পুঞ্জিবাসী ইলিয়াস বারে, নার্সারি পুঞ্জির প্রবাস মৃং প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের পুন:মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে সমস্ত এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সে সমস্ত এলাকায় যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের অভিমত গ্রহণ ও অর্থবহ প্রতিফলনকে নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, সিলেট হচ্ছে বৈচিত্র্যময় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ এলাকা। ভুলভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে ইতিমধ্যে অনেক পুঞ্জির জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই আদিবাসীদের সুরক্ষা করতে হবে।ধরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প আদিবাসী খাসিয়াদের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করবো। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের অতীতের মত ভবিষ্যতেও লড়াই করে যেতে হবে।বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আদিবাসী নেত্রী বাবলী তালাং বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অতীতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নামে অতীতে খাসিয়াদের পান জুম দখল হয়েছে। তিনি দখলকৃত পান জুমের জায়গা খাসিয়াদের ফিরিয়ে দিতে বলেন।ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, বোনকে বনের মত প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ দিলেই বন গড়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ প্রকল্প গ্রহণ করে বনের সর্বনাশ করেছে।হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক বনায়নের নামে এমনকিছু গাছ লাগানো হয়েছিল যা উপযুক্ত নয়। এই সমস্ত গাছ কেটে সাফ করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা বলেন, বনায়ন করার কিছু নেই। বনকে ধ্বংস না করলেই বন বেঁচে থাকতো, কিন্তু বন বিনাশ করে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন কিছু না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভা

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আজ ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিশনে বিকাল ৪ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত “আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যুষ আসাক্রা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল।মেঘাটিলা খাসিয়া পুন্জির মন্ত্রী মনিকা খংলার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, কুবরাজ সংগঠনের উপদেষ্টা পাস্টর পাইরিন সুটিং, আগার পুঞ্জির মন্ত্রী সুখময় আমসে, বড়লেখা ৫ নং পঞ্জির মন্ত্রী কেনেডি সুমের, ৭ নং পুঞ্জিবাসী ইলিয়াস বারে, নার্সারি পুঞ্জির প্রবাস মৃং প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের পুন:মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে সমস্ত এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সে সমস্ত এলাকায় যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের অভিমত গ্রহণ ও অর্থবহ প্রতিফলনকে নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, সিলেট হচ্ছে বৈচিত্র্যময় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ এলাকা। ভুলভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে ইতিমধ্যে অনেক পুঞ্জির জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই আদিবাসীদের সুরক্ষা করতে হবে।ধরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প আদিবাসী খাসিয়াদের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করবো। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের অতীতের মত ভবিষ্যতেও লড়াই করে যেতে হবে।বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আদিবাসী নেত্রী বাবলী তালাং বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অতীতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নামে অতীতে খাসিয়াদের পান জুম দখল হয়েছে। তিনি দখলকৃত পান জুমের জায়গা খাসিয়াদের ফিরিয়ে দিতে বলেন।ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, বোনকে বনের মত প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ দিলেই বন গড়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ প্রকল্প গ্রহণ করে বনের সর্বনাশ করেছে।হাওর রক্ষায় আমরা (ধরা) সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক বনায়নের নামে এমনকিছু গাছ লাগানো হয়েছিল যা উপযুক্ত নয়। এই সমস্ত গাছ কেটে সাফ করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা বলেন, বনায়ন করার কিছু নেই। বনকে ধ্বংস না করলেই বন বেঁচে থাকতো, কিন্তু বন বিনাশ করে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন কিছু না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।