ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

জামাইয়ের ক্ষোভের আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি

শাকিল আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যুরো চীফ
মে ১৬, ২০২৪ ১২:২৮ অপরাহ্ণ । ২৭ জন
Link Copied!

print news

জীবননগরের কাঠপট্টি এলাকায় আগুন ধরিয়ে শ্বশুর খোরশেদ আলমের দোকানসহ ৬টি দোকান ও একটি বসত বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাই সোনা মিয়ার (২৭) বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী দোকানী শহিদ। অভিযোগের পর সন্ধ্যার দিকে শিয়ালমারী এলাকা থেকে জামাই সোনা মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এই আগুন লাগে। বুধবার ভোর ৫টার দিকে আগুনে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।ক্ষতিগ্রস্ত ৬ দোকানদার হলেন, খোরশেদ আলম, আরিফ, মহর আলী, আলা মিয়া, শহিদ ও ডালিম।লিখিত অভিযোগে শহিদ দাবি করেন, পাশের দোকানদার খোরশের জামাই একতারপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে সোনা মিয়া (২৭) তাদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। লিখিত অভিযোগে তিনি আরও জানান, খোরশেদের মেয়ের সঙ্গে তার জামাই সোনার মিয়ার দুই দিন আগে তালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ) হয়। পরে সে ক্ষুদ্ধ হয়ে মঙ্গলবার রাতে খোরশেদর বাড়িতে আগুন দেয়। এরপর জীবননগর এসে খোরশেদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে আগুনে আমারসহ মোট ৬টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের গত দুই দিন আগে তালাক হয়। মঙ্গলবার রাতে আমার জামাই আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাড়ির আগুন নেভাতে নেভাতে খবর পায় আমাদের বাজারের দোকানে আগুন লেগেছে। ধারণা করছি রাগে আমার জামাই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১টার পর খোরশেদের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের আরও ৫টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটের কর্মীরা এসে ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।কাঠমিস্ত্রী ইদ্রিস বলেন, রাত দেড়টার দিকে পাশের দোকানের একজন ফোন করে বলেন কাঠপট্টিতে আগুন লেগেছে। পরে এসে দেখি আগুন জ্বলছে। তেমন কোনো মালামাল বের করা যায়নি।বাঁকা গ্রামের আনার বলেন, আমি দরজার ফ্রেম বানাতে দিয়েছিলাম। গত মঙ্গলবার কাজ শেষ হয়েছিল। ভাবছিলাম আজ নিয়ে যাব। এখন এসে দেখছি আগুনে সব পুড়ে গেছে।জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাত ১টার ৩২ মিনিট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। অতিরিক্ত আগুন হওয়ায় পাশের দর্শনা ও মহেশপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। রাত ২টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে উদ্ধারকাজ শেষ করে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর আমরা প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছি।এদিকে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জীবননগর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম।জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবীদ হাসান বলেন, রাতে এবং সকালে আমাদের দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শব করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে সোনা মিয়াকে জিজ্ঞাসার জন্য আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগের সাথে সত্যতা পেলে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হবে।