ঢাকারবিবার , ১৯ মে ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ খবর

মায়ের শাস্তির দাবিতে মেয়েসহ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

শাকিল আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যুরো চীফ 
মে ১৯, ২০২৪ ১:১৪ অপরাহ্ণ । ২১ জন
Link Copied!

print news

জীবননগর উপজেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আবেদা খাতুনের (৩৯) বিরুদ্ধে শাস্তির ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যহারের দাবি জানিয়ে মেয়ে জুই খাতুনসহ মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার কাশিপুর গ্রামে আবেদা খাতুনের বাড়ির সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচিত আবেদা খাতুন কাশিপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত আফসার মন্ডলের মেয়ে।অভিযুক্ত আবেদা খাতুনের মেয়ে জুই খাতুন (২২), ভাবী তরি বেগমসহ (৩৫) স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আবেদা খাতুন একজন দেহ ব্যবসায়ী, সে একাধিক বিবাহ করে করেছেন। এই নারীর অত্যাচারে সাধারন মানুষ ও যুবসমাজ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাকে কেউ বাধা দিলে হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। তাছাড়া বিভিন্ন যুবকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের ব্ল্যাক মেইল করে মিথ্যা মামলায় ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়ার মত চাঞ্চল্যকর বহু ঘটনাও ওই এলাকায় আলোড়ন তুলেছে।’ মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ এ নারীর বিরুদ্ধে প্রতারনা ও অসামাজিক কার্যকলাপের বহু ঘটনার ফিরিস্তি গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।এসময় আবেদার মেয়ে জুই খাতুন বলেন, ‘মা-বাবার ডিভোর্সের পর থেকে আমি নানার বাড়িতে বড় হয়েছি। আমার মা একজন খারাপ প্রকৃতির মহিলা। আমার ২২ বছর বয়সে তিনি আমাকে ৬বার বিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে ডিভোর্স দিয়ে দেন-মোহরের টাকা নেওয়ায় তার ব্যবসা। কোনো স্বামীর সঙ্গেই তিনি আমাকে সংসার করতে দেন না। আমার ৮ বছর বয়সী একটা কন্যা সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ মিন্টু রহমানের সাথে আমার বিয়ে হয়। তার সাথে গত ১০ই এপ্রিল জোরপূর্বক আমাকে ডিভোর্স করতে বাধ্য করেন। আমার মা আমাকে দিয়ে খারাপ কাজ করাতে চান। তবে আমি মিন্টু রহমানের সাথে পুনরায় সংসার করতে চাইলে আমার মামা নজরুল ইসলাম মিন্টুর সাথে আমাকে আবারও বিয়ে দেন। বিয়ে দেওয়ার কারণে আমার মা আমাকে বাড়ি থেকে বের দেন। বর্তমানে স্বামীকে নিয়ে আমি মামার বাড়িতেই অবস্থান করছি। মামা আমাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আমার মা তার সঙ্গে সবসময় ঝগড়া বিবাদ করতে থাকে এবং আমার মামাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়। গত ১১ই মে রাতে আমাদের বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে ২জন পুরুষ ও ২জন মহিলা অবস্থান করছিল। তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করাতে আমার মা আমার উপর ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমার মামা ও প্রতিবেশিরা আমাকে রক্ষা করতে আসলে ঘরের দেয়ালে ঘর্ষণ লেগে আমার মায়ের কপাল একটু ছিলে যায়। এ ঘটনায় আমার মা আমার স্বামী মিন্টু রহমান, মামা নজরুল ও মামী তরীর নামে থানায় মামলা দায়ের করলে মামাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমি এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আমার মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। মায়ের কারণে আর কোনো মেয়ের সংসার যেনো এভাবে বার বার ভেঙে না যায়।’ এছাড়াও মানববন্ধন আবেদার ভাইয়ের বউসহ এলাকাবাসী বক্তব্য রাখেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবেদা খাতুনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।