ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মর্যাদার প্রতীক—জিয়া পরিবার বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে এক অনন্য উদাহরণ দাদুর পক্ষ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা—দেশবাসী কাছে দোয়া চেয়েছেন জাইমা রহমান ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি তৃণমূলে: এডভোকেট আবেদ রাজার প্রতি অগ্রাধিকার চায় কর্মীরা ডা. জুবাইদা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ দল উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া প্রস্তুতি—আগামীকাল ঢাকায় আসছেন ডা. জুবাইদা রহমান গরিব-দুঃখী মানুষের গল্পে মানবতার ছোঁয়া—শেরপুরে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার গণসংযোগ হে আল্লাহ দয়াময়, তুমি সকল কিছুর মালিক। আমার মা জননী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির করিয়া দেও :তারেক রহমান হার না মানা সংগ্রামের নাম— খালেদা জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশজুড়ে প্রার্থনার বন্যা এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে তিন বাহিনীর প্রধান

মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়েই সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা

সাংবাদিক মোঃসৈয়দ রাসেল
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর সাংবাদিক গোলাম রব্বানি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাটহাটি মোড়। গত বুধবার রাত ১০টা ১৭ মিনিট। সাংবাদিক গোলাম রব্বানি মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই মোড় পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ একজন দৌড়ে গিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেলটি পেছন দিক থেকে টেনে ধরে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। গোলাম রব্বানি পড়ে যাওয়ার পরপরই একদল সন্ত্রাসী ওই সাংবাদিককে টেনেহিঁচড়ে কিল-ঘুষি ও ব্যাপক মারধর করতে থাকে।

সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। সবাইকে ধরার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

গোলাম রব্বানি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে মারা যান। তিনি ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’–এর জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে ‘একাত্তর টিভির’ বকশীগঞ্জ উপজেলা সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম লোকজন দিয়ে তাঁকে হত্যা করিয়েছেন। মাহমুদুল আলম সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাম রব্বানিকে মারতে মারতে সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই পাশ সিসিটিভির আওতায় নেই। পুলিশ জানায়, মারধরের একপর্যায়ে গোলাম রব্বানি অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়।

 

গোলাম রব্বানির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে রাতেই তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সকালে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গোলাম রব্বানি বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের গোমের চর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

গোলাম রব্বানির স্ত্রী মনিরা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম তাঁর (গোলাম রব্বানি) ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আগেও নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন। ওই ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনই তাঁকে হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়েই সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা

নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

জামালপুর সাংবাদিক গোলাম রব্বানি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাটহাটি মোড়। গত বুধবার রাত ১০টা ১৭ মিনিট। সাংবাদিক গোলাম রব্বানি মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই মোড় পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ একজন দৌড়ে গিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেলটি পেছন দিক থেকে টেনে ধরে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। গোলাম রব্বানি পড়ে যাওয়ার পরপরই একদল সন্ত্রাসী ওই সাংবাদিককে টেনেহিঁচড়ে কিল-ঘুষি ও ব্যাপক মারধর করতে থাকে।

সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। সবাইকে ধরার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

গোলাম রব্বানি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে মারা যান। তিনি ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’–এর জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে ‘একাত্তর টিভির’ বকশীগঞ্জ উপজেলা সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম লোকজন দিয়ে তাঁকে হত্যা করিয়েছেন। মাহমুদুল আলম সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাম রব্বানিকে মারতে মারতে সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই পাশ সিসিটিভির আওতায় নেই। পুলিশ জানায়, মারধরের একপর্যায়ে গোলাম রব্বানি অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়।

 

গোলাম রব্বানির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে রাতেই তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সকালে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গোলাম রব্বানি বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের গোমের চর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

গোলাম রব্বানির স্ত্রী মনিরা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম তাঁর (গোলাম রব্বানি) ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আগেও নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন। ওই ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনই তাঁকে হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।