সামাজিক অবক্ষয় ও কেয়ামতের আলামত বিষয়ে আমার কিছু ক্ষুদ্র মতবাদ।

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩ ২১৪ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটা সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের শেষ পর্যায়।কারণ হিসেবে দেখা যায়,সামাজিক সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সমাজের মাতব্বর শ্রেণীর লোকেদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে মসজিদ ভাঙ্গা গড়ার কাজ নিয়ে যত উন্নয়ন।তাই তারা সর্বদাই নিয়োজিত থাকে এই কাজে।খুব দুঃখের সাথে বলতে হয় এটা কেয়ামতের একটি বড় আলামত।মসজিদ কখনো আল্লাহর এবাদত করে না।আল্লাহর এবাদত করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লী।আর মসজিদের সৌন্দর্যই হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।মুসল্লী ছাড়া মসজিদ যত সুন্দর হক না কেনো,এই সুন্দরের কোন দাম নেই।মসজিদ ভাঙ্গা গড়ার পিছনে মাতব্বর শ্রেণীর লোকদের যে দূরত্ব দেখা যায় তার শতকরা দশভাগের এক ভাগ ও যদি মুসল্লিদের পিছনে ব্যয় করা হতো,তাহলে পুরো সমাজটাই সুন্দর হয়ে যেত।
এবার আসি মসজিদের সুসজ্জিত করার প্রতিযোগিতা নিয়ে কিছু কথা_
পাশের ধনী এলাকার মসজিদে দামী মার্বেল পাথরের টাইলস বসানো হয়েছে,অত্যাধুনিক নামিদামি ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স ফেন এসি সহ ক্রিস্টাল পাথরের ঝাড়বাতি বসানো হয়েছে।আমাদের মসজিদে নাই,এটা হতেই পারে না।আর এখানেই মাতব্বর শ্রেণীর লোকেদের চুলকানি শুরু।তাদের মহল্লার মসজিদে ও এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করাই লাগবে,তা না হলে তাদের আর পেস্টিজ থাকছে না।এই ধরনের নোংরা মন মানসিকতার কারণে সাধারণ মুসল্লির যতটুকু না উপকার হবে তার চাইতে বেশি ফয়দা যেন তাদের।মসজিদের যে উন্নয়ন সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই সব উন্নয়নে তাদের খুঁজেই পাওয়া যায় না।বছরের পর বছর শুধু মসজিদের উন্নয়নই হচ্ছে।
মুসল্লিদের কেন উন্নয়ন হচ্ছে না?
এবার আসি মসজিদে মুসল্লী না হওয়ার কিছু কারণ।
প্রতিটি মহল্লার মসজিদের মাতব্বর শ্রেণীর লোকেরা যদি সুদ,ঘুষ,হারামের সাথে লিপ্ত থাকে তাহলে সেই মসজিদে মুসল্লী কম হবে,এটাই স্বাভাবিক।কারণ এইসব সুদখোর, ঘুষখোর,হারামখোরদের সাথে কোন ধর্মপ্রাণ মুসল্লী নামাজ পড়তে চান না।
একজন সুশিক্ষিত ওস্তাদের কাছ থেকেই একজন সুশিক্ষিত ছাত্র আশা করা যায়।
একজন ধর্মীয় লাইনের সুশিক্ষিত খতিব বা আলেম আর পাড়া মহল্লার মসজিদের ইমামতি করা অল্প শিক্ষিত আলেমের যোগ্যতা এক হবে না।পাশের ধনী এলাকার মসজিদের চাকচিক্যর সাথে একজন সুশিক্ষিত খতিব বা আলেম ও থাকে,এই বিষয়টা মাথামোটা মাতাব্ব্বর শ্রেণীর মুসুল্লিরা খুব সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।এটার কারণ একটাই একজন সুশিক্ষিত আলেম কখনই সুদখোর,ঘুষখোর হারামখোরদের ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।একজন সুশিক্ষিত খতিব বা আলেম তার ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা ধারা একটা সমাজকে সুন্দর ও সুশৃংখল করতে পারে। তবে তথাকথিত কাঠমোল্লা বা অল্প শিক্ষিত আলেম দ্বারা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।পাশের ধনী এলাকার মসজিদের চাকচিক্য সব কিছুই নকল করতে পারে কিন্তু একজন সুশিক্ষিত খতিব বা আলেম নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গাফিলতি প্রকাশ সমান।
একটা মসজিদে মুসল্লিদের আবাদ করতে চাইলে,একজন সুশিক্ষিত খতিব বা আলেমের বিকল্প নেই।একজন সুশিক্ষিত মানুষই পারে একটা সুশিক্ষিত সমাজ গড়ে দিতে।তাই আমি বলব একটা মসজিদকে ভাঙ্গা গড়া বা সুসজ্জিত করা বাদ দিয়ে।একজন সুশিক্ষিত আলেম বা খতিব প্রতিটা মহল্লার মসজিদগুলিতে নিয়োগ দিন।আর তখনই সমাজ সুন্দর,সুবাতাস ও স্নিগ্ধ ছড়াবে বলে আমি মনে করি।






















