ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দূর্নীতি অনিয়মের পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  ডা. মাহমুদা মিতু: চিকিৎসক থেকে জনমানুষের রাজনীতির অনুপ্রেরণা ফেক আইডি ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শাহবাগ থানায় জিডি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন। 

একযোগেও গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত

তৌহিদুর রহমান শেরপুর প্রতিনিধি-
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গত একযুগেও ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত। এগুচ্ছ গ্রামে নারী পুরুষ শিশুসহ শতাধিক লোকের বসবাস। জানা গেছে, গোমড়া গ্রামের অপর নাম ভুমিহীন পাড়া। পুরো গ্রামে প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। প্রায় সবাই ভুমিহীন। সিংহভাগ মানুষ সরকারি খাজ জমিতে বসবাসের পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ ও শ্রমবিক্রি করে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে তারা । এ পুরো গ্রামে তেমন কোনো কোরবানি হয় না বললেই চলে। এ গ্রমের ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বৈদেশিক সাহায্যে একটি গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণ করে সরকার। জানা গেছে, এগুচ্ছ গ্রামে ৩০ টি গৃহহীন ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। গুচ্ছ গ্রামের নারী পুরুষ সবাই দিনমজুর। দিনমজুরি করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। ৩০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারিভাবে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্তা। বর্তমানে এ গুচ্ছ গ্রামে নারী পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক লোকের বসবাস। একদিন কাজে না গেলে সেদিন এ গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরে চুলা জ্বলে না। সেদিন অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয় তাদের। গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা আঙ্গুরি বেগম (৭০) দিনমজুরি করে চলে তার সংসার। ২ ছেলে ৪ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাদের সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। আঙ্গুরি বেগম বয়সেরভারে ন্যুইয়ে পরেছে। তবুও তাকে জীবিকার তাগিদে মজুরি করতে যেতে হয়। গুচ্ছ গ্রামে মাথাগোজার ঠাই হলেও সরকারিভাবে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড কিংবা ভাগ্যে জুটেনি অন্য কোন সাহায্য সহযোগিতা। পুরো গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় একই অবস্থা। গুচ্ছ গ্রামের সাধারণ সম্পাদক জনাব আলীসহ গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ গুচ্ছ গ্রামে অবস্থানের পর থেকে দীর্ঘ একযোগেও তাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত। গ্রামবাসীরা জানান, গতবছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুচ্ছ গ্রামবাসীদের কোরবানির গোস্ত দেয়ার নাম করে পরিচয় পত্রের ফোটা কপিও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও গুচ্ছগ্রামবাসীদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্তো। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একযোগেও গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গত একযুগেও ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত। এগুচ্ছ গ্রামে নারী পুরুষ শিশুসহ শতাধিক লোকের বসবাস। জানা গেছে, গোমড়া গ্রামের অপর নাম ভুমিহীন পাড়া। পুরো গ্রামে প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। প্রায় সবাই ভুমিহীন। সিংহভাগ মানুষ সরকারি খাজ জমিতে বসবাসের পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ ও শ্রমবিক্রি করে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে তারা । এ পুরো গ্রামে তেমন কোনো কোরবানি হয় না বললেই চলে। এ গ্রমের ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বৈদেশিক সাহায্যে একটি গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণ করে সরকার। জানা গেছে, এগুচ্ছ গ্রামে ৩০ টি গৃহহীন ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। গুচ্ছ গ্রামের নারী পুরুষ সবাই দিনমজুর। দিনমজুরি করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। ৩০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারিভাবে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্তা। বর্তমানে এ গুচ্ছ গ্রামে নারী পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক লোকের বসবাস। একদিন কাজে না গেলে সেদিন এ গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরে চুলা জ্বলে না। সেদিন অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয় তাদের। গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা আঙ্গুরি বেগম (৭০) দিনমজুরি করে চলে তার সংসার। ২ ছেলে ৪ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাদের সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। আঙ্গুরি বেগম বয়সেরভারে ন্যুইয়ে পরেছে। তবুও তাকে জীবিকার তাগিদে মজুরি করতে যেতে হয়। গুচ্ছ গ্রামে মাথাগোজার ঠাই হলেও সরকারিভাবে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড কিংবা ভাগ্যে জুটেনি অন্য কোন সাহায্য সহযোগিতা। পুরো গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় একই অবস্থা। গুচ্ছ গ্রামের সাধারণ সম্পাদক জনাব আলীসহ গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ গুচ্ছ গ্রামে অবস্থানের পর থেকে দীর্ঘ একযোগেও তাদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্ত। গ্রামবাসীরা জানান, গতবছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুচ্ছ গ্রামবাসীদের কোরবানির গোস্ত দেয়ার নাম করে পরিচয় পত্রের ফোটা কপিও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও গুচ্ছগ্রামবাসীদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির গোস্তো। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।