শেভরন-সমর্থিত সামার স্কুল থেকে ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি অর্জন নবীগঞ্জের মারিয়া হাসান মাইশার

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার শেরপুর রোড এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী মারিয়া হাসান মাইশা অসাধারণ সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন। শেভরন বাংলাদেশ সমর্থিত একটি স্টেম (STEM) কেন্দ্রিক গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW)-এ অধ্যয়নের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন।
এই বৃত্তির আওতায় আগামী চার বছর ধরে তিনি প্রতি বছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে মোট ৬০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা) পাবেন। এই আর্থিক সহায়তা তার উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সুগম করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই ১ জুলাই এউডব্লিউ সামার স্কুলে ভর্তি হন মাইশা। সেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (STEM) বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেন। পরবর্তীতে তার মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানজনক বৃত্তি লাভ করেন।
মাইশার ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরপুর। তার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মনজুর হাসান মনির ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে তার মা রেবেকা সুলতানা একটি ছোট কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করে সংসার চালিয়ে আসছেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানের শিক্ষার প্রতি তার অবিচল সমর্থন আজ সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নবীগঞ্জের জে কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন মাইশা। মানবিক বিভাগের ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মাইশা বলেন, “বিজ্ঞানকে আমার কাছে সবসময়ই ভীতিপ্রদ মনে হতো। কিন্তু সামার স্কুল সেই ভয় দূর করে দিয়েছে এবং আমাকে দেখিয়েছে যে বিজ্ঞান ততটা কঠিন নয়, যতটা আমি আগে ভাবতাম।”
তিনি জানান, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী না হওয়ায় শুরুতে কিছুটা সংকোচ থাকলেও তার সহপাঠীরা তাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে রসায়ন ও পরীক্ষাগারের বিভিন্ন বিষয় বুঝতে তাদের সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বৃত্তি অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মাইশা বলেন, “এই বৃত্তি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আর্থিক সহায়তা ছাড়া AUW-তে পড়াশোনা করা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। এই সুযোগটি তৈরি করার জন্য আমি শেভরনের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
নিজের সাফল্যের পেছনে মাইশা তার মা রেবেকা সুলতানা এবং বড় ভাই, দ্বিতীয় বর্ষের অনার্স শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান রাহির অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা তাকে নতুন শিক্ষাগত পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য সামার স্কুলে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, মারিয়া হাসান মাইশার এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নবীগঞ্জ তথা হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। প্রতিকূলতাকে জয় করে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি











