ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দূর্নীতি অনিয়মের পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  ডা. মাহমুদা মিতু: চিকিৎসক থেকে জনমানুষের রাজনীতির অনুপ্রেরণা ফেক আইডি ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শাহবাগ থানায় জিডি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন। 

আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাফনের সময় খবর এল তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে

সংবাদ দাতা মোঃসিফাত শেখ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন রংপুর জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। আজ শুক্রবার ফল প্রকাশের পর জানা যায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো ফলের এই আনন্দ যেন নিতে পারছে না সহপাঠী, শিক্ষক বা পরিবারের কেউই। কারণ স্কুলে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন দাফন করা হচ্ছে মামুনের লাশ।

আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগিরহাট বামন দিঘি নিজ গ্রামে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়। তার বাবা মোস্তফা জামান ও মা আরজিনা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সেই বড়।

মামুনের পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে রক্ত শূন্যতায় ভুগছিল মামুন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

এ দিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকার্ত রংপুর জিলা স্কুলে তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফল প্রকাশের দিনে তাদের মনে নেই তেমন আনন্দ।

মামুনের বন্ধু ও সহপাঠী ইয়াসির আরাফাত কান্নাজড়িত কণ্ঠ,বলেন ‘মামুন আমার প্রিয় বন্ধু ছিল। ও খুবই ভালো ছেলে। রেজাল্টের দিন সে এভাবে হারিয়ে যাবে, এটা ভাবতে পারছি না। খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ পাক আমার বন্ধুকে ওপারে ভালো রাখুন।’

রংপুর জেলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক আল ইমরান,বলেন ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। সে সাত বছর আগে আমাদের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’

ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাহিনা সুলতানা বলেন ‘প্রতিবছর রেজাল্টের দিন আমরা স্কুলে অনেক আনন্দ উল্লাস করি। কিন্তু আজ তার পরিবর্তে আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনকে স্থির করতে পারছি না। সন্তানের মতো সাত বছর ধরে মামুনকে স্কুলে দেখভাল করেছি। আজ খুশির দিনে সে নেই। সে নিজের ফলাফল দেখে যেতে পারল না।’

আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাবা মোস্তফা জামান নিজেও একজন স্কুলশিক্ষক। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে মামুন বড়। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব মনোযোগ ছিল। সে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা আমার (মামুন) পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে। সে জানতে পারল না। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাফনের সময় খবর এল তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩

রংপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন রংপুর জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। আজ শুক্রবার ফল প্রকাশের পর জানা যায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো ফলের এই আনন্দ যেন নিতে পারছে না সহপাঠী, শিক্ষক বা পরিবারের কেউই। কারণ স্কুলে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন দাফন করা হচ্ছে মামুনের লাশ।

আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগিরহাট বামন দিঘি নিজ গ্রামে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়। তার বাবা মোস্তফা জামান ও মা আরজিনা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সেই বড়।

মামুনের পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে রক্ত শূন্যতায় ভুগছিল মামুন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

এ দিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকার্ত রংপুর জিলা স্কুলে তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফল প্রকাশের দিনে তাদের মনে নেই তেমন আনন্দ।

মামুনের বন্ধু ও সহপাঠী ইয়াসির আরাফাত কান্নাজড়িত কণ্ঠ,বলেন ‘মামুন আমার প্রিয় বন্ধু ছিল। ও খুবই ভালো ছেলে। রেজাল্টের দিন সে এভাবে হারিয়ে যাবে, এটা ভাবতে পারছি না। খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ পাক আমার বন্ধুকে ওপারে ভালো রাখুন।’

রংপুর জেলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক আল ইমরান,বলেন ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। সে সাত বছর আগে আমাদের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’

ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাহিনা সুলতানা বলেন ‘প্রতিবছর রেজাল্টের দিন আমরা স্কুলে অনেক আনন্দ উল্লাস করি। কিন্তু আজ তার পরিবর্তে আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনকে স্থির করতে পারছি না। সন্তানের মতো সাত বছর ধরে মামুনকে স্কুলে দেখভাল করেছি। আজ খুশির দিনে সে নেই। সে নিজের ফলাফল দেখে যেতে পারল না।’

আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাবা মোস্তফা জামান নিজেও একজন স্কুলশিক্ষক। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে মামুন বড়। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব মনোযোগ ছিল। সে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা আমার (মামুন) পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে। সে জানতে পারল না। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’