প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের জন্য প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘ চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।
সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজেটে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, এসব লক্ষ্য অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাজেটের সফলতা এর আকারের ওপর নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুফল অর্জিত হয়নি।
সিপিডি মনে করে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তিশালী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। এমন প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন, যা জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে এবং বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
গবেষণা সংস্থাটি আরও বলেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি সরকার কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী । প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে নিট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
























