ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রেসক্রিপশনে দুর্বোধ্য হাতের লেখা: ‘জীবন-মরণের প্রশ্ন:শেখ শহিদুর রহমান পাভেল ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় মোবাইল কোর্ট, দালাল সন্দেহে আটক সিদ্দিক মৃধাকে জরিমানা ও কারাদণ্ড নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গল্পটি পড়ুন  আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শেভরন-সমর্থিত সামার স্কুল থেকে ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি অর্জন নবীগঞ্জের মারিয়া হাসান মাইশার জয়শ্রীতে মিজান ও লাবিবা পরিবহনকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও এলাকাবাসী মুখোমুখি অবস্থান। মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২০ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠানটির নাম পাল্টে মায়ের নামে করতে রাজি হলেন না প্রধানমন্ত্রী

প্রেসক্রিপশনে দুর্বোধ্য হাতের লেখা: ‘জীবন-মরণের প্রশ্ন:শেখ শহিদুর রহমান পাভেল

রিপোর্টার সুবর্ণা রেশমা 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার সুবর্ণা রেশমা 

ঢাকা, ৬ জুন ২০২৬:* ডাক্তারদের হাতের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভুল ওষুধ সেবন ও চিকিৎসা বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। এতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসক্রিপশন হাতে না লিখে কম্পিউটারে টাইপ করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারির দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যানারে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

*ব্যানারে যা লেখা আছে:*

ব্যানারটিতে বড় করে লেখা, *”ডাক্তারদের কড়া নির্দেশ – প্রেসক্রিপশনে হাতের লেখা স্পষ্ট করুন নাহলে টাইপ করে দিন। কারণ এটা মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন। কে কে আমার সাথে একমত?”*

দুই পাশে দুইজন নারী চিকিৎসকের ছবি সংযুক্ত করে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যানারটি ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এতে একমত পোষণ করে মন্তব্য করছেন।

*কেন এই দাবি?*

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাক্তারদের দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ দেওয়া, ভুল ডোজ বা ভুল নিয়মে ওষুধ সেবনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

*১. নাম বিভ্রাট:* `Azithromycin` কে `Erythromycin` পড়ে ফার্মেসি ভুল ওষুধ দিয়ে দেয়।

*২. ডোজ বিভ্রাট:* `1+0+1` কে `101` ভেবে রোগী একসাথে ১০১টি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

*৩. সংকেত বিভ্রাট:* `BD`, `TDS`, `HS` এর মতো সংকেত সাধারণ রোগীরা বুঝতে পারেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, শুধু ভুল প্রেসক্রিপশনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

*সরকারি নির্দেশনা কি বলে?*

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালে এক পরিপত্রে সকল সরকারি হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন কম্পিউটারে টাইপ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বেসরকারি পর্যায়ে ইউনাইটেড, স্কয়ার, এভারকেয়ারের মতো বড় হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে শতভাগ টাইপ করা প্রেসক্রিপশন চালু করেছে। তবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের চেম্বার ও ক্লিনিকগুলোতে এখনো হাতেই লেখা হয়।

*চিকিৎসকদের বক্তব্য:*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, দিনে ১০০-১৫০ জন রোগী দেখতে হয়। প্রতি প্রেসক্রিপশন টাইপ করতে গেলে রোগী প্রতি ৪-৫ মিনিট বেশি লাগবে। এতে সিরিয়াল আরও দীর্ঘ হবে। তবে তারা স্বীকার করেন, স্পষ্ট হাতের লেখা বা টাইপ করা প্রেসক্রিপশন রোগীর নিরাপত্তার জন্য জরুরি। সরকারিভাবে চেম্বারে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

*জনগণের প্রতিক্রিয়া:*

উত্তরখানের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত মাসে আমার বাবার প্রেসক্রিপশন বুঝতে না পেরে ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো খাওয়ানোর আগে আরেক ডাক্তারকে দেখাইছিলাম। এটা আসলেই জীবন-মরণের প্রশ্ন। টাইপ করা বাধ্যতামূলক করা হোক।”

*করণীয়:*

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে সারাদেশে ই-প্রেসক্রিপশন চালু করা উচিত। পাশাপাশি রোগীদেরও উচিত প্রেসক্রিপশন না বুঝলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে স্পষ্টভাবে লিখিয়ে নেওয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রেসক্রিপশনে দুর্বোধ্য হাতের লেখা: ‘জীবন-মরণের প্রশ্ন:শেখ শহিদুর রহমান পাভেল

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

রিপোর্টার সুবর্ণা রেশমা 

ঢাকা, ৬ জুন ২০২৬:* ডাক্তারদের হাতের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভুল ওষুধ সেবন ও চিকিৎসা বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। এতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসক্রিপশন হাতে না লিখে কম্পিউটারে টাইপ করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারির দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যানারে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

*ব্যানারে যা লেখা আছে:*

ব্যানারটিতে বড় করে লেখা, *”ডাক্তারদের কড়া নির্দেশ – প্রেসক্রিপশনে হাতের লেখা স্পষ্ট করুন নাহলে টাইপ করে দিন। কারণ এটা মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন। কে কে আমার সাথে একমত?”*

দুই পাশে দুইজন নারী চিকিৎসকের ছবি সংযুক্ত করে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যানারটি ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এতে একমত পোষণ করে মন্তব্য করছেন।

*কেন এই দাবি?*

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাক্তারদের দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ দেওয়া, ভুল ডোজ বা ভুল নিয়মে ওষুধ সেবনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

*১. নাম বিভ্রাট:* `Azithromycin` কে `Erythromycin` পড়ে ফার্মেসি ভুল ওষুধ দিয়ে দেয়।

*২. ডোজ বিভ্রাট:* `1+0+1` কে `101` ভেবে রোগী একসাথে ১০১টি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

*৩. সংকেত বিভ্রাট:* `BD`, `TDS`, `HS` এর মতো সংকেত সাধারণ রোগীরা বুঝতে পারেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, শুধু ভুল প্রেসক্রিপশনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

*সরকারি নির্দেশনা কি বলে?*

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালে এক পরিপত্রে সকল সরকারি হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন কম্পিউটারে টাইপ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বেসরকারি পর্যায়ে ইউনাইটেড, স্কয়ার, এভারকেয়ারের মতো বড় হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে শতভাগ টাইপ করা প্রেসক্রিপশন চালু করেছে। তবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের চেম্বার ও ক্লিনিকগুলোতে এখনো হাতেই লেখা হয়।

*চিকিৎসকদের বক্তব্য:*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, দিনে ১০০-১৫০ জন রোগী দেখতে হয়। প্রতি প্রেসক্রিপশন টাইপ করতে গেলে রোগী প্রতি ৪-৫ মিনিট বেশি লাগবে। এতে সিরিয়াল আরও দীর্ঘ হবে। তবে তারা স্বীকার করেন, স্পষ্ট হাতের লেখা বা টাইপ করা প্রেসক্রিপশন রোগীর নিরাপত্তার জন্য জরুরি। সরকারিভাবে চেম্বারে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

*জনগণের প্রতিক্রিয়া:*

উত্তরখানের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত মাসে আমার বাবার প্রেসক্রিপশন বুঝতে না পেরে ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো খাওয়ানোর আগে আরেক ডাক্তারকে দেখাইছিলাম। এটা আসলেই জীবন-মরণের প্রশ্ন। টাইপ করা বাধ্যতামূলক করা হোক।”

*করণীয়:*

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে সারাদেশে ই-প্রেসক্রিপশন চালু করা উচিত। পাশাপাশি রোগীদেরও উচিত প্রেসক্রিপশন না বুঝলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে স্পষ্টভাবে লিখিয়ে নেওয়া