আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি ডা. মাহমুদা মিতুর

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন
ঢাকা: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি মনে করেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে দেশের অন্যতম জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং বাড্ডার একটি মা ও শিশু হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালে আদ-দ্বীন হাসপাতাল সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা শুনতেন—“আদ-দ্বীন হাসপাতাল হলো দ্বিতীয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।” তার ভাষায়, এই মন্তব্যের গুরুত্ব অনেক বড় এবং এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
তিনি জানান, তখন তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং হাসপাতালটির পরিচালনা বা মালিকানা সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা ছিল না। তবে চিকিৎসক হিসেবে তিনি দেখেছেন, রাত-বিরাতে জটিল পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আদ-দ্বীন ছিল একটি নির্ভরতার নাম।
ডা. মিতুর মতে, বর্তমান সময়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এত কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়া প্রায় অকল্পনীয়। বিশেষ করে স্বল্প ব্যয়ে প্রসূতি সেবা, নরমাল ডেলিভারি, আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি হাজারো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। কম খরচে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়ার কারণে তাদের ওপর অনেক চাপ থাকে। ফলে মাঝেমধ্যে সেবার মান নিয়ে অভিযোগ উঠতে পারে। তবে রোগীদের আমি সবসময় বোঝানোর চেষ্টা করতাম যে, এত কম খরচে চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়াও জরুরি।”
চিকিৎসাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী তিনি আদ-দ্বীন হাসপাতালে রেফার করেছেন। সরকারি হাসপাতালের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি রোগী পাঠিয়েছেন আজিমপুর মাতৃসদনে।
ডা. মিতু বলেন, “রাত-বিরাতে আমাদের ক্লিনিকে যখন জটিল রোগী আসত এবং আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে যেত, তখন নির্দ্বিধায় আদ-দ্বীনে পাঠিয়ে দিতাম। কারণ সেখানে ২৪ ঘণ্টা অ্যানেস্থেসিয়া সুবিধাসহ জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদ-দ্বীন শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল সংখ্যক দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী বের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেবা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যধিক। বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দা পর্যন্ত রোগীতে পরিপূর্ণ। এই অবস্থায় আদ-দ্বীনের মতো একটি বৃহৎ সেবাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ডা. মাহমুদা মিতু সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতাল সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন।





















