আবু সাঈদ হ/ত্যা/ মা/ম/লা/র পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (১৪ জুন) প্রকাশিত এ রায়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও শাস্তির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ৫ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হলে আদালত রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ পর্যন্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুজাদ মিয়া।
রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলার তদন্তে সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত রায় প্রদান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে পুরোপুরি সফল হয়নি এবং তাদের মক্কেলরা নির্দোষ। তবে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়ের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবু সাঈদের পরিবার ও সহপাঠীরা রায়কে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

























