ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী উপস্থিতি: নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে, দিনব্যাপী ব্যস্ত সফর কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বকাপের শেষ উদ্বোধনী উৎসবে তারকাদের ঝলক, মাঠে নামছে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন  কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ ও জনসভাসহ ব্যস্ত দিনের কর্মসূচি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি ডা. মাহমুদা মিতুর শেরপুরে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত শেরপুরের মানুষ আছে বলেই আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে পেরেছি: এমপি ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: আজ রাতেই শুরু ফুটবল মহাযুদ্ধ, চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত এক পাখি।

স্বপন হোসেন (বিশেষ প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে বিলুপ্তের পথে যেসব পাখি রয়েছে তার মধ্যে চিল অন্যতম। আকারে ভিন্ন হলেও বেশির ভাগ চিলের গড়ন হালকা। ডানা দুটি বেশ সরু ও দীর্ঘ, পা দুর্বল ও খাটো। শঙ্খচিল, কালোডানা চিল, কালোকাঁধ চিল, ভুবন চিলসহ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির চিল রয়েছে।

 

এদের মধ্যে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির চিল দেখা যায়। চিলের এ প্রজাতি গুলো হচ্ছে— কালোকাঁধ চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Elanus caeruleus),

শঙ্খচিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus)

ভুবন চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans)।

 

চিল এক ধরনের শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। শিকারের খোঁজে এরা আকাশে ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরে বেড়ায় । সাধারণত এরা মাছ, কীটপতঙ্গ , উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ শিকার করে।

চিল মৃত প্রাণীও খায়। তবে বর্জ্যে তাদের রুচি কয়েক গুণ বেশি। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই চিল দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

এর প্রধান কারণ জলাশয়ে মাছ কমে যাওয়া, বেপরোয়া গাছ কেটে ফেলা। ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার; যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় প্রাকৃতিক গাছ গুলো অবৈধ ভাবে কেটে ধংশ করা হচ্ছে। যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারত। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শস্যক্ষেতে বিষটোপ, কীটনাশকের ব্যবহার, গবাদি পশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ব্যবহার, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, বাসস্থানের অভাব।ফলে খাবার ও প্রজনন সমস্যায় চিল বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো প্রকৃতিতে সেভাবে চিলের বিচরণ চোখে পড়ছে না।

 

অতর্কিত বৃক্ষ নিধন বন্ধ, জনসচেতনতা ও সরকারের সুদৃষ্টি। এ তিন মিলে এ পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার সম্ভব হতে পারে।

 

লেখকঃ মো মেহেদী হাসান

সমন্বায়কঃ The wild save organisation.

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত এক পাখি।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

বর্তমান সময়ে বিলুপ্তের পথে যেসব পাখি রয়েছে তার মধ্যে চিল অন্যতম। আকারে ভিন্ন হলেও বেশির ভাগ চিলের গড়ন হালকা। ডানা দুটি বেশ সরু ও দীর্ঘ, পা দুর্বল ও খাটো। শঙ্খচিল, কালোডানা চিল, কালোকাঁধ চিল, ভুবন চিলসহ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির চিল রয়েছে।

 

এদের মধ্যে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির চিল দেখা যায়। চিলের এ প্রজাতি গুলো হচ্ছে— কালোকাঁধ চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Elanus caeruleus),

শঙ্খচিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus)

ভুবন চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans)।

 

চিল এক ধরনের শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। শিকারের খোঁজে এরা আকাশে ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরে বেড়ায় । সাধারণত এরা মাছ, কীটপতঙ্গ , উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ শিকার করে।

চিল মৃত প্রাণীও খায়। তবে বর্জ্যে তাদের রুচি কয়েক গুণ বেশি। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই চিল দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

এর প্রধান কারণ জলাশয়ে মাছ কমে যাওয়া, বেপরোয়া গাছ কেটে ফেলা। ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার; যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় প্রাকৃতিক গাছ গুলো অবৈধ ভাবে কেটে ধংশ করা হচ্ছে। যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারত। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শস্যক্ষেতে বিষটোপ, কীটনাশকের ব্যবহার, গবাদি পশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ব্যবহার, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, বাসস্থানের অভাব।ফলে খাবার ও প্রজনন সমস্যায় চিল বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো প্রকৃতিতে সেভাবে চিলের বিচরণ চোখে পড়ছে না।

 

অতর্কিত বৃক্ষ নিধন বন্ধ, জনসচেতনতা ও সরকারের সুদৃষ্টি। এ তিন মিলে এ পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার সম্ভব হতে পারে।

 

লেখকঃ মো মেহেদী হাসান

সমন্বায়কঃ The wild save organisation.